খবর লাইভ : ভারতের কাছে রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রি সংক্রান্ত চুক্তি ঘিরে লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসল ফ্রান্স সরকার। চুক্তি ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে তদন্তের জন্য এক বিচারককে নিয়োগ করা হয়েছে। ফরাসি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘শেরপা’র অভিযোগের ভিত্তিতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিসেসের ফিনান্সিয়াল ক্রাইমস ব্রাঞ্চ। ২০১৮ সালেও রাফাল চুক্তি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছিল ‘শেরপা’। যদিও তখন সেই দাবি খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।
দেশের বায়ুসেনার শক্তি বৃদ্ধি করতে ফ্রান্স থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান রাফাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। ২০১৬ সালে রাফাল যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে ভারতের সঙ্গে ফ্রান্সের চুক্তির পরেই গোটা প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তাঁর অভিযোগ ছিল, দ্যাসোঁ অ্যাভিয়েশন থেকে প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করেছে মোদি সরকার। কিন্তু বারবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত সরকারের শীর্ষ মহল। এমনকী রাফাল যুদ্ধবিমানের নির্মাতা দাসোঁ অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়, চুক্তি নিয়ে কোনও অনিয়ম হয়নি।
কিন্তু মিডিয়াপার্ট নামে এক সংবাদমাধ্যম রাফাল চুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি তুলে ধরে দাবি করে, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকার যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। শুক্রবার ফের মিডিয়াপার্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফ্রান্সের পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিসের আর্থিক অপরাধ শাখার (পিএনএফ) প্রধানের দায়িত্ব নিয়েই গত ১৪ জুন জিন-ফ্রানসোইস বোহনার্ট রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে ফের তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই একজন বিচারককে নিয়োগ করা হয়েছে। ওই বিচারক যেমন চুক্তি নিয়ে দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফ্রান্সিস অঁল্যাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবেন, তেমনই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও বর্তমানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাঁক্রোর ভূমিকাও পর্যালোচনা করবেন। তাছাড়া কেন প্রাক্তন পিএনএফ প্রধান ইলাইন হোলিট আচমকাই রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত তদন্তের ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত করবেন।




