খবর লাইভ : কাঁটা দিয়ে কার্যত কাঁটা তোলার নীতি নিল বিজেপি। কারণ এখনও গেরুয়া শিবিরের নজর বাংলার কুর্সির দিকেই। যেন তেন প্রকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরাতেই হবে। না হলে ২০২৪-এর লড়াইয়ে বড় অ্যাডভান্টেজ পেয়ে যাবেন মমতা। আর সেই সুবাদেই দেশের মসনদের দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন তিনি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভবত সেই জন্যই মমতাকে বাংলার রাজনীতির মধ্যেই ব্যস্ত রেখে দেওয়া হচ্ছে। যাতে জাতীয় রাজনীতি নিয়ে তিনি বেশি মাথা ঘামাবার সুযোগ না পান কিংবা বাংলা ছেড়ে দিল্লি না এসে পড়ে থাকেন। তাই এবার নিজের ঘরের লোককেই ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে মমতাকে ঠেকানোর পথে হাঁটা দিতে চলেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, এবার গদি যেতে বসেছে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তিরথ সিং রাওয়াতের। কেননা তাঁকেও মমতার মতোই বিধানসভার উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে হবে। কিন্তু বিজেপি সেই উপনির্বাচনই চায় না। উপনির্বাচন না হলে বাংলায় মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। বিজেপি এখন ঘরের লোকেদের পদে কোপ বসিয়েই বড় লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছে। তাই গদি যেতে চলেছে তিরথের।
মমতা একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন নন্দীগ্রাম বিধানসভা থেকে। কিন্তু সেই যুদ্ধে তিনি পরাস্ত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। যদিও সেই ফলাফল নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। এমনকী এই বিধানসভা কেন্দ্রে যাতে ফের ভোটগণনা করা হয়, তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে মামলা দায়েরও করেছেন তৃণমূলনেত্রী। এই অবস্থায় আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার সদস্য হিসাবে রাজ্যের কোনও না কোনও বিধানসভা কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনের মাধ্যমে জিতে আসতে হবে। কেননা বিধায়ক না হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী হলে তাঁকে ৬ মাসের মধ্যে রাজ্য আইনসভার সদস্য হতে হয়। তৃণমূল সুপ্রিমোকেও সেই আইন মানতে হবে। রাজ্যে এখন ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের আসন ফাঁকা আছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কবে সেই সব আসনে উপনির্বাচন সাঙ্গ করবে তা তারা ঘোষণা করেননি। যদিও গতকালই জানা গিয়েছিল আগস্ট মাসে সেই উপনির্বাচন করাতে পারে নির্বাচন কমিশন। তবে এখন সেই উপনির্বাচনও আটকে দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিজেপি। লক্ষ্য একটাই মমতা যেন ৫ নভেম্বরের পরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদ না সামলাতে পারেন।
এই আশঙ্কা আরও জমাট বেঁধেছে, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তিরথ সিং রাওয়াত দিল্লিতে এসে পড়ে থাকায়। বিজেপি সূত্রেই জানা গিয়েছে, মমতা যাতে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে না পারেন তার জন্য বিজেপি এখন উঠেপড়ে লেগেছে দেশের সব উপনির্বাচন আটকে দিতে। মমতার মতো তিরথও বিধানসভার সদস্য বা বিধায়ক নন। তাই তাঁকেও উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে তাঁকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই জিতে আসতে হবে। কিন্তু বিজেপি তাঁকে সরিয়ে দিয়ে উত্তরাখণ্ডের কোনও বিজেপি বিধায়কেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে চায় যাতে উপনির্বাচনের কোনও প্রয়োজনই না হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তিরথ নিজ রাজ্যেই এত বড় নেতা নন যে তাঁকে বলির পাঁঠা বানিয়ে দিলে বিজেপি সেখানে ধ্বসে যাবে। তাই তিরথের গদি কেড়েই এখন মমতার যাত্রাভঙ্গ করতে উঠে পড়ে লেগেছেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ-জেপি নাড্ডারা। জাতীয় নির্বাচন কমিশন এখন গেরুয়া শিবিরের এই ষড়যন্ত্রেই মান্যতা দেয় নাকি ঠিক সময়ে উপনির্বাচন করিয়ে পাল্টা নিরপেক্ষতার বার্তা দেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।




