Special News Special Reports State

এসআইআরে আপনার নাম বাদ পড়বে কোন কোন কারণে?কীভাবে চ্যালেঞ্জ করবেন?

0
(0)

খবর লাইভ : রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের তত্ত্বাবধানে চলা এই প্রক্রিয়ায় ১১ নভেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি ৫৬ লক্ষ এনুমারেশন ফর্ম বিলি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যদি কারও নাম না থাকে, তাহলে তিনি আগামী বড় সংশোধনী (২০২৬ সাল পর্যন্ত) ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই এসআইআর কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যা সংসদ প্রদত্ত ক্ষমতার অধীনে পরিচালিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, আগামী ২০২৬-এ এরাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন।

কে বাদ পড়তে পারেন ভোটার তালিকা থেকে?
নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে যোগ্যতা ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে হবে।
ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির শর্ত হল —
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া,
সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া,
এবং ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকা।

কারও নাম বাদ যেতে পারে যদি —
১) তিনি অন্য ঠিকানায় চলে গেছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন,
২) বৈধ নথি নেই,
৩) অথবা পূর্বে ভুলবশত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন।
রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী জানিয়েছেন, “নির্বাচন কমিশন সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি সাংবিধানিক সংস্থা,  আইন প্রণয়নকারী সংস্থা নয়। সংসদ প্রদত্ত আইন অনুযায়ী কমিশন প্রশাসনিক আদেশ জারি করে যাতে ভোটার তালিকা নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত থাকে।”

কীভাবে যাচাই করবেন আপনার নাম ভোটার তালিকায় আছে কিনা?
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট — https://voters.eci.gov.in/
ও https://electoralsearch.eci.gov.in/
— থেকে আপনার ভোটার তালিকায় নাম খুঁজে দেখতে পারেন।
সন্ধানের জন্য ব্যবহার করা যাবে —
EPIC নম্বর (ভোটার কার্ড নম্বর),
ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, পিতা/স্বামীর নাম, জন্মতারিখ ইত্যাদি),
অথবা মোবাইল নম্বর (যদি ভোটার আইডির সঙ্গে যুক্ত থাকে)।
এছাড়াও, সহায়তার জন্য ১৯৫০ নম্বরে টোল-ফ্রি ফোন করা যাবে।

যদি নাম বাদ যায়, তাহলে কী করবেন?
যদি কারও নাম SIR প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ে, তবে পরবর্তী সংশোধনীর আগে (২০২৬ সালের আগে) তিনি কোনও নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। নাম বাদ পড়লেও বা আবেদন বাতিল হলেও আপিলের তিনটি সুযোগ রয়েছে —
প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার-এর সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আপিল করা যাবে।
তাতেও সন্তুষ্ট না হলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর কাছে আবেদন করা যাবে।
তাছাড়া, দাবি-আপত্তির সময়সীমায় নতুন ভোটাররা নিবন্ধন করতে পারবেন এবং বিদ্যমান ভোটাররা নিজেদের তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে।
এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সচেতনতা অভিযান চলছে, যাতে কোনও যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়ে যায়।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *