খবর লাইভ : জৈন হাওয়ালা মামলার চার্জশিটে রাজ্যপালের নাম নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলতেই এই সাফাই দিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর স্বয়ং। কিন্তু ওই মামলার চার্জশিটে জগদীপ ধনকরের নাম তো রয়েইছে, তা উল্লেখ করেই এবার তৃণমূলের পাল্টা প্রশ্ন ওই জগদীপ ধনকরই কি বাংলার রাজ্যপাল? পাশাপাশি ওই মামলার মূল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কুমার জৈনের মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।
রাজ্যপাল নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও জৈন হাওয়ালা কাণ্ডের সাংবাদিক তথা দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের কর্মী বিনীত নারায়ণ অবশ্য ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। এতদিন পর বিষয়টি ফের জনসমক্ষে আনার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। এর মধ্যেই গত ২৮ জুন জৈন হাওয়ালা মামলার মূল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কুমার জৈনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার সেই মৃত্যুতেও রহস্য দেখছে শাসক দল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জৈন হাওয়ালা মামলায় রাজ্যপালের নাম নেওয়ার পরই ওই মামলার মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, এই মৃত্যু কি স্বাভাবিক নাকি অন্য কিছু রয়েছে এর নেপথ্যে, তা খতিয়ে দেখা উচিত।’ তৃণমূল সাংসদের কথায়, ‘দেশের সুরক্ষা, মানুষের সুরক্ষা নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল, তার সঙ্গে নাম রয়েছে ধনকরের। এই ধনকর কি রাজ্যপাল ধনকর? এখনও আমাদের রাজ্যপাল তার উত্তর দিচ্ছেন না।’
১৯৯১ সালে কাশ্মীর থেকে হিজবুল জঙ্গি আশফাক হুসেনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা যায়, হাওয়ালার মাধ্যমেই টাকা আসত ওই জঙ্গি সংগঠনের হাতে। আশফাক আরও জানিয়েছিল, সেই টাকা আসত সুরেন্দ্র কুমার জৈন নামক এক শিল্পপতির কাছ থেকে। এই হাওয়ালায় জৈনের আত্মীয়রাও জড়িত ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। আশফাকের সেই বয়ানের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। খোঁজ মেলে জৈনদের দুটি ডায়েরি আর দুটি নোটবুকের। কবে কাকে কত টাকা দিয়েছেন, তা তাতে লিখে রেখেছিলেন জৈন। আর সেই তালিকা ছিল বিস্ফোরক। সেই তালিকাতেই নাম ছিল জগদীপ ধনকরের। এদিন সুখেন্দু বলেন, ‘জৈনদের হিসেব অনুযায়ী, তিন চার কিস্তিতে টাকা নিয়েছিলেন ধনকর। কে এই জগদীপ ধনকর? তিনিই কি আমাদের রাজ্যপাল? জবাব দিচ্ছেন না কেন?’




