খবর লাইভ : বাংলাদেশে যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদি’র মৃত্যুর পর থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাদি, যিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় নির্বাচনী কর্মসূচি চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মৃত্যুবরন করেন, যা জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতভর রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় হাজারো মানুষ সড়কে নেমে প্রতিবাদ করেন। সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখেছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিমত প্রকাশ করেছেন। ধানের মোড়, শাহবাগ, বাঙলামটর ও কারওয়ান বাজারের মতো এলাকাগুলোতে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হয়ে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি হন।
প্রদর্শনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রাস্তায় নেমে “আমরাও সবাই হাদি” এবং “ভারত নয়, ঢাকা” জাতীয়তাবাদী স্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সরকারের প্রতি সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
রাতভর উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা দেশের সবচেয়ে বড় দুইটি সংবাদমাধ্যমের অফিসে ভাঙচুর করে আগুন ধরে দেয়। আগুনে দমকল পুলিশের সহায়তায় অফিসের কর্মীরা নিচের তলায় থেকে ছাদে উঠে যান এবং পরে নিরাপদে তাদের উদ্ধার করা হয়।
শহরের অন্যান্য এলাকার মতো খুলনায়তেও এক সাংবাদিককে গুলির শিকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহে এক যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনাও ঘটে। রাজশাহীসহ বিভিন্ন শহরে আওয়ামী লীগের অফিস ও শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামে কিছু বিক্ষোভকারী ভারতীয় উপদূতাবাসের সামনে অবস্থান নেন এবং উপদূতাবাসকে নিশানায় রেখে ঢিল ছোড়া হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে একটি শোক দিবস ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, আন্দোলন ও হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।




