Special News Special Reports State

রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি ভোটারকে শুনানি ও নথি যাচাইয়ের জন্য ডাকা হতে পারে

0
(0)

খবর লাইভ : রাজ্য জুড়ে চলছে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন। নির্ভূল ভোটার লিস্ট তৈরির দিকে সজাগ দৃষ্টি রেখেছে কমিশন। এবার প্রেসিডেন্সি ডিভিশন, মেদিনীপুর ডিভিশন, বর্ধমান ডিভিশন, মালদা ডিভিশন ও জলপাইগুড়ি ডিভিশনের জন্য পাঁচ জন সিনিয়র আইএএস আধিকারিককে স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশ অনুসারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি কুমার রবি কান্ত সিংহকে প্রেসিডেন্সি বিভাগে বিশেষ রোল অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি কৃষ্ণকুমার নিরালাকে পাঠানো হচ্ছে বর্ধমান বিভাগে। গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের জয়েন্ট সেক্রেটারি পঙ্কজ যাদবকে জলপাইগুড়ি বিভাগে, অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের জয়েন্ট সেক্রেটারি অলোক তিওয়ারিকে মালদা বিভাগে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি নিরাজ কুমার বানসোরকে মেদিনীপুর বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই বিশেষ রোল অবজার্ভারদের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা যাতে কোনও যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তির নাম যেন ভুলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যজুড়ে শুনানি প্রক্রিয়ায় নথিপত্র প্রয়োজন এমন ভোটারদের সাহায্য করতে ক্যাম্প চালুর ঘোষণা করার পরই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের এক আধিকারিক বলেন, “এটা স্পষ্টভাবে বলা যায় যে শুনানি ও যাচাই প্রক্রিয়ার উপরই নজরদারি করতে এই কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। গণনার সময় বহু ত্রুটি সামনে আসায় ইসি চাইছে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোরভাবে সম্পন্ন হোক।”

কমিশন অনুমান করছে, রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি ভোটারকে শুনানি ও নথি যাচাইয়ের জন্য ডাকা হতে পারে। ২০০২ সালের রোলের সঙ্গে সংযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। এই বিশাল নথি যাচাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে কমিশন। এক কর্মকর্তার কথায়, “নথি যাচাইয়ে সামান্য ভুল হলেও অযোগ্য নাম ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়তে পারে। তাই এই পুরো প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে ইসি বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে।”

চিফ ইলেকটোরাল অফিসারের দপ্তরের এক সিনিয়র আধিকারিক জানান, রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত ৫৬.৩৭ লাখ ভোটারকে ‘আনকালেক্টেবল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৭.৬৬ কোটি গণনা ফরম বিতরণ করা হয়েছে। অধিকারিকের ব্যাখ্যায়, “৫৬ লাখের বেশি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, ২৩.৯৮ লাখ মৃত ভোটার, ১০.৯৫ লাখ ঠিকানা ম্যাচ না হওয়া ভোটার, ১৯.৬৫ লাখ অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটার, ১.৩২ লাখ ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এবং আরও ৪৭,৮৩২টি বিভিন্ন কারণে বাদ দেওয়া এন্ট্রি।” তিনি আরও জানান, ভোটার তালিকায় ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট নাম শনাক্ত করতে বিএলও মোবাইল অ্যাপটি সম্পূর্ণভাবে আপডেট করা হয়েছে। সোমবার থেকে অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে নতুন ফিচার “ডুপ্লিকেট ইলেক্টর ভেরিফিকেশন”।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *