Special News Special Reports State

হুমায়ুনের আচরণ মৌলবাদী উগ্রতার প্রকাশ, বিস্ফোরক শুভেন্দু

0
(0)

খবর লাইভ : বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের চরমে উত্তেজনা। সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে নিশানা করে  বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, কবিরের আচরণ “মহম্মদ আলি জিন্নাহর মতো”। এই মন্তব্যের পর রাজ্য-রাজনীতিতে রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে যে ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে, তা আইনসিদ্ধ নয়। তাঁর দাবি, “১,০০০ পুলিশ মোতায়েন করে প্রশাসনের সহায়তায় মুঘল–পাঠান আক্রমণকারীর নামে উদযাপন হয়েছে সেখানে।” তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “বাবর একজন ধর্ষক, লুটেরা। তিনি ভারতীয় নন। ভারত দখল করতেই এসেছিলেন। মন্দির ধ্বংস করতে, মানুষকে জোর করে ধর্মান্তর করতে। দেশের সোনা–হিরে–রত্ন লুটে বিদেশে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর নামে কিছু তৈরি করার বিরোধিতা করাই উচিত।”

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রেজিনগরের অনুষ্ঠান কোনও ধর্মীয় আচার নয়, বরং “মৌলবাদী উগ্রতার প্রকাশ”, শুভেন্দু আরও জানান, মসজিদ বা মন্দির নির্মাণে বিজেপির কোনও আপত্তি নেই। আপত্তি “উস্কানিমূলক প্রতীকী নামকরণ” নিয়ে। হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি আক্রমণ করে শুভেন্দুর অভিযোগ, “তিনি যে ভাষা ব্যবহার করছেন, তা হোসেন সোহরাওয়ার্দী আর মহম্মদ আলি জিন্নার ‘ভাষার’ মতো। এটা  সহাবস্থানের ভাষা নয়, যুদ্ধ ঘোষণা।” সেদিনের অনুষ্ঠানে পুলিশি মোতায়েন নিয়েও তিনি সরব হন। শুভেন্দুর অভিযোগ, “সরস্বতী পুজো করতে গেলে আদালতের অনুমতি নিতে হয়, মা কালীকে পর্যন্ত প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। অথচ রেজিনগরে বিনা অনুমতিতে লাখো মানুষের জমায়েত, লাউডস্পিকার, চাঁদা সংগ্রহ,সবই পুলিশি মদতে হয়েছে।”

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, মন্দির,মসজিদ,গির্জা,গুরদ্বারাসবই তৈরি হোক, কিন্তু আইন মেনে, নিজের জমিতে, নিজের সম্প্রদায়ের টাকায়। কিন্তু এখানে যে ক্ষমতা দেখানো হল, তা বিপজ্জনক। শেষে কড়া মন্তব্য করেন শুভেন্দু, বলেন,  “আমি এটা মাংস খেয়ে করব” এর মানে কী? যারা বোঝার, তারা বুঝে গিয়েছেন।”বিজেপির অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “বাংলাকজে ধর্মীয় মেরুকরণের ভিত্তিতে ভাগ করার চেষ্টা বারবার হচ্ছে। কিছু মানুষ এই চক্রান্তে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছেন। কিন্তু বাংলা ধর্মীয় উগ্রবাদে বিশ্বাস করে না।”

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *