International Special News Special Reports

রাষ্ট্রপুঞ্জ পাকিস্তানে ২৭তম সংশোধনী নিয়ে সতর্ক, আসিম মুনিরের ক্ষমতাবৃদ্ধিতে উদ্বেগ

0
(0)

খবর লাইভ : সম্প্রতি আমেরিকার মানবাধিকার বিভাগীয় প্রধান ভলকার ট্রাক জানিয়েছেন, পাকিস্তানের নতুন সাংবিধানিক সংশোধনীগুলিকে “বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ভিত্তি” ক্ষুণ্ন করার মতো গুরুতর পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন তারা।

তাঁর মতে, এই সংশোধনী দ্রুত পাস করা হয়েছে, আইনজীবী এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা বা বিতর্ক ছাড়াই। ফলে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সেনা-দায়বদ্ধতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কিন্তু পাকিস্তানের এই ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনী কী? কেন তা নিয়ে এত হইচই? ‘চিফ অফ আর্মি স্টাফ’ (স্থলসেনা প্রধান) ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বা সেনা সর্বাধিনায়ক) পদে উন্নীত করার জন্য গত মাসে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার পাক সংবিধানের ২৪৩ নম্বর ধারা সংশোধনের বিল পাশ করিয়েছিল পাক পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে।

নতুন সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে একটি বিশেষ “ফেডারাল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট গঠন, যা সংবিধান সংক্রান্ত মামলার সুযোগ-অধিকার নেয়। এর ফলে দেশের সর্বোচ্চ আইন আদালি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের বিচারাত্মক ক্ষমতা সীমিত হয়েছে।

আবার, সংশোধনীর এক ধারা সেনা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানকে নতুন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক  হিসেবে দায়িত্ব দেয়। এছাড়া সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভাব্য লাইফ টাইম  আইনি সুরক্ষা, এমনকি প্রয়োজনে বিচার থেকেও  পাওয়া যাবে বলে ধারণা রয়েছে।

তবে পাকিস্তানি সরকার ও বিদেশ মন্ত্রণালয় এই সমালোচনাকে “অযৌক্তিক” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী সংবিধানে সংশোধনী করার অধিকার পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রয়েছে, এবং এই পরিবর্তনগুলো দেশীয় নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য জরুরি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রহ বা পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশে বিচার ও সেনা, প্রশাসন  সবই একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে থাকলে তাকত ও ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়, এবং জনগণের মৌলিক অধিকার  যেমন, স্বাধীন বিচার ও আইনগত সুরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ে, এমনটাই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।

এই নতুন আইনগত পরিবর্তনগুলো যদি কার্যকর হয়, তাহলে পাকিস্তানে বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা কমে গিয়ে আরেক ধরনের ক্ষমতাবন্টনে সেনা ও রাজনৈতিক শাসকগোষ্ঠীর হাতে বিকল্প হতে পারে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি একটি বিকল্প ভারসাম্যহীন দিকনির্দেশনা। যেখানে “নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ”কে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টায় গণতান্ত্রিক-আইনগত মূল্যবোধ উপেক্ষা করা হচ্ছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *