খবর লাইভ : বিহারে রেকর্ড জয়ের মূল কান্ডারী নীতিশ কুমারের রাজনৈতিক দক্ষতায় বদলে গিয়েছে বিহারের রাজনীতির সমীকরণ। নির্বাচনে এনডিএ-র ঐতিহাসিক জয়ের পর আবারও মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চলেছেন নীতীশ কুমার। দশমবারের মতো শপথের প্রস্তুতি চলছে পাটনায়।
“সুশাসন বাবু” নামে পরিচিত জেডিইউ-এর সিনিয়র নেতা আবারও প্রমাণ করলেন যে বিহারের রাজনীতিতে তিনি এখনও সবচেয়ে প্রভাবশালী ‘মুখ’। ২০২০ সালে জেডিইউ যেখানে ৪৩টি আসনে পেয়েছিল, সেখানে এবার তারা জিতেছে ৮৫টি আসন প্রায় দ্বিগুণ।
“বিহার কা এক হি স্টার, নিতীশ কুমার”। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শুক্রবার রাতে পাটনা থেকে জেলা সর্বত্রই এই স্লোগানেই মখরিত হয়েছে রাজপথ। ৭৪ বছরের নিতীশ, যিনি “সুশাসন রাজ”-এর প্রতীক হিসেবে পরিচিত, দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার অপেক্ষায়।
স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা ও নানা সমালোচনার মধ্যেও তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ভোটব্যাঙ্ককে অটুট থেকেছে। ২০২০ সালে ৪৩টি আসন জয়ী জেডিইউ এবার প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৮৫ আসনে পৌঁছেছে (শুক্রবার রাত ১০.৩০ পর্যন্ত)। এবারের ফলাফল আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, নিতীশেই আস্থা রেখেছেন বিহারের জনগণ। নিতীশের বিশেষত্ব, তিনি সব স্তরের, সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সমান জনপ্রিয়।
নির্বাচনের আগে অবশ্যশারীরিক সমস্যা, কিছু বিতর্কিত মন্তব্য, বিরোধীদের ব্যঙ্গ- ইভিএম-এ সবকিছুরই যোগ্য জবাব দিয়েছেন বিহারের মানুষ। নীতীশের “সুশাসন বাবু” ও “মিস্টার ক্লিন” ভাবমূর্তি এখনও অটুট। যা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করেছেন রাজনৈতিক মহল। তাঁর মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু অভিযোগ থাকলেও নিতীশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোন অভিযোগ নেই। লালুর মতো পরিবারতন্ত্রের অভিযোগও নেই নীতীশের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি, গ্রাম-শহরে রাস্তাঘাটের উন্নতি, সামগ্রিক বিহারের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এসবই তাঁর জনপ্রিয়তার বড় কারণ। ইবিসি, ওবিসি, মহিলা, যুবক, সমাজের সব শ্রেনির মানুষকে নিয়ে তিনি তৈরি করেছেন শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ক। উচ্চবর্ণের মানুষও নীতীশের নীতিতেই আস্থা রেখেছেন।
ঐতিহাসিক জয়ের পর নিতীশ কুমার এক্স-এ লিখেছেন, “সমস্ত ভোটারকে হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ। এনডিএ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সব সহযোগী দলকেও ধন্যবাদ।”




