National Special News Special Reports

দিল্লি বিস্ফোরণের পর আসল মাথা খুঁজে বার করার চেষ্টায় তৎপর গোয়েন্দারা

0
(0)

খবর লাইভ : মঙ্গলবার,  রাজধানী নয়াদিল্লির কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোণের ঘটনা ঘটে। এর ঠিক পরপরই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উদ্বেগের সঙ্গে তদারকি শুরু করেছে। ঘটনার পরপরই ফরিদাবাদ-সহ হরিয়ানার অন্যান্য এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, এ বিস্ফোরণের সঙ্গে ফরিদাবাদের একটি কারখানা বা যেকোনো হাই-স্পটের সংযোগ থাকতে পারে।

উত্তরপ্রদেশেও কার্যক্রম চলছে: লখনউ, সাহারানপুর ও লখনিমপুর খেরি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। স্থানীয় মহিলা চিকিৎসক শহিদের বাড়িতেও অভিযান হয়েছে।

সরকারি উর্ধ্বতন তথ্য বলছে, এই বিস্ফোরণের পেছনে একটি সংগঠিত ষড়যন্ত্র রয়েছে। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “যাদের জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

তদন্তকারী সংস্থাগুলো বলছে, উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলোতে ব্যবহৃত পদার্থ যেমন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং আরডিএক্স-র মিশ্রণ রয়েছে। এছাড়া, হামলার গাড়িটির নম্বর প্লেট ও মালিকের খোঁজ চলছে। গাড়িটির বর্তমানে ‘রেজিস্ট্রেশনধারী’ ব্যক্তি তদন্তে সংযুক্ত হয়েছেন।
এদিকে, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি ও স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছু খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে।

মঙ্গলবারও উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ধৃত চিকিৎসক শাহিন শহিদের বাসভবনেও চলেছে অভিযান। বিস্ফোরণের আসল মাথা কে, সেটাই এখন খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গোয়েন্দারা। বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১২।

কাশ্মীরে নাশকতার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি একটি বিশেষ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে। সামাজিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে তৈরি হত নাশকতার ছক। এমন খবর পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। সেই তদন্তে নেমে ১৯ অক্টোবর শ্রীনগরে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার সাঁটার অভিযোগে চিকিৎসক আদিল আহমেদ র‌্যাদারকে গ্রেফতার করে কাশ্মীর পুলিশ। তাঁকে জেরা করে উঠে আসে নতুন তথ্য। আদিলকে জেরা করে আরও চিকিৎসকের হদিস পায় পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রে খবর, কাশ্মীরে নাশকতার উদ্দেশ্যে যে বিশেষ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে, তারা সামাজিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে তৈরি করত নাশকতার ছক।

আপাতত তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে লালকেল্লাও। বিস্ফোরণের পর থেকে রাতভর দিল্লির পাহাড়গঞ্জ, দরিয়াগঞ্জ এবং আশপাশের এলাকার হোটেলগুলিতে তল্লাশি চলেছে। খতিয়ে দেখা হয়েছে বিভিন্ন হোটেলের রেজিস্টার খাতা।

মঙ্গলবার দফায় দফায় তদন্তকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই বৈঠকে বিস্ফোরণের নেপথ্যে জড়িত প্রত্যেক দোষীকে খুঁজে বার করার নির্দেশ দেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন শাহ। সেই বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অধিকর্তা তপন ডেকা, দিল্লির পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা এবং এনআইএ-র ডিজি সদানন্দ বসন্ত। ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশপ্রধান নলিন প্রভাত। সেই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরে আবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, দিল্লির লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে দিল্লি ১০/১১ ঘটনা ‘মর্মান্তিক’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *