খবর লাইভ : পানিহাটিতে এনআরসি আতঙ্কে প্রদীপ করের রহস্যমৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রদীপ করের হাতের চারটি আঙুল ছিল না। দুর্ঘটনায় সেই আঙুলগুলো বাদ পড়ে। তাহলে সুইসাইড নোটটি কে লিখলেন? এই বিষয়টি প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেছেন, “সুইসাইড নোট কে লিখেছে তা জানা দরকার। এনআরসি তো চালু হয়নি। এনআরসি নিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল।” এদিকে পানিহাটিতে প্রদীপ করের মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ প্রতিবাদ মিছিলে পা মিলিয়েছে তৃণমূল।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার ওই বাসিন্দার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে আগরপাড়ার ফ্ল্যাটে তাঁর ঘর থেকে প্রদীপের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই ঘরেই মেলে একটি ডায়েরি। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। বাড়ির লোকজন এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, প্রদীপ এনআরসি সংক্রান্ত নানা খবর নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। সুইসাইড নোটে এনআরসি-র কথার উল্লেখও আছে।’’ ঘটনাচক্রে, তার আগেই সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘‘৫৭ বছর বয়সি প্রদীপ কর আত্মহত্যা করেছেন। একটি চিরকুট রেখে গিয়েছেন তিনি। যেখানে লেখা আছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য এনআরসি দায়ী।’
অবিবাহিত প্রদীপ ভাই এবং ভ্রাতৃবধূর সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। সোমবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে তিনি নিজের ঘরে শুতে যান। মঙ্গলবার সকালে ভ্রাতৃবধূ বার বার ডেকেও সাড়া না পেয়ে প্রদীপের ভাইকে ডাকেন। প্রতিবেশীরা আসেন। সমবেত ডাকাডাকিতেও সাড়া না মেলায় থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে প্রদীপের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। পুলিশই উদ্ধার করে ‘বিতর্কিত’ সুইসাইড নোটটি। বুধবার সকালে মৃতের ভগ্নিপতি উত্তম বলেন, ‘‘উনি লিখতে জানতেন বলে তো জানি না। ক্লাস থ্রি-ফোর পর্যন্ত পড়েছেন। মশারির দোকান ছিল ওঁর। দোকান যখন চালাতেন, হয়তো কোনও ভাবে লিখতেন। কিন্তু আমরা কেউ কখনও ওঁকে লিখতে দেখিনি। হাতের লেখা ওঁর কি না বলতে পারব না।’’ পাশাপাশিই উত্তম বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরেই উনি পানিহাটি বিধানসভার ভোটার। উনি এ দেশেরই বাসিন্দা। তবে ওঁর বাবা বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছিলেন।’’




