খবর লাইভ : দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে পুজো কমিটিগুলিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া হয়ে গিয়েছে সেই অনুদান। আর রাজ্য জুড়ে এই উৎসবের আবহেই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমারের তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দে। তাঁর দাবি, ক্লাবগুলিকে পুজো মণ্ডপে রাখতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। নাহলে ভবিষ্যতে ওই ক্লাবগুলির অনুদান আটকে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়কের এহেন মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সেই ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দকুমার বিডিও অফিস সংলগ্ন একটি হল ঘরে আয়োজন করা হয়েছিল ওই এলাকার ৬৬টি পুজো কমিটিকে নিয়ে সরকারি অনুদান বিলির অনুষ্ঠান। সেখানেই পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা সহ উপস্থিত ছিলেন নন্দকুমারের তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দে। সেখানেই তিনি অভিযোগের সুরে জানান, সরকারের তরফে অনুদান পাওয়ার পরেও অনেক পুজোর মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো হচ্ছে না। সেজন্য তিনি তাঁর বিধানসভার অনুদানপ্রাপ্ত ক্লাবগুলির মণ্ডপগুলিতে ডায়েরি নিয়ে ঘুরে দেখবেন। এরপরই তৃণমূল বিধায়ক হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যদি কোনও মণ্ডপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ওই পুজো কমিটির অনুদান আটকে দেওয়া হবে।
বিধায়কের কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রীর এই অনুদান দেওয়ার বিষয়ে অনেকেই আদালতের মাধ্যমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী অনুদান দিচ্ছেন। কিন্তু কিছু ক্লাব মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়নি বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধাগুলি তুলে ধরেনি।’ তাঁর বক্তব্য, ‘যিনি এই কাজ করছেন তাঁকে অন্তত সম্মান দেওয়া উচিত।’
এরপরই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুজোয় ক্লাবগুলিকে সরকারি অনুদান দিচ্ছেন। এই টাকা রাজ্যের জনগণের করের টাকা। কিন্তু নন্দকুমারের বিধায়ক সুকুমার দে যেভাবে ধমকাচ্ছেন, মনে হচ্ছে অনুদানের টাকা যেন তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি।’
এরপরই নন্দকুমারের তৃণমূল বিধায়ককে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনার দল আগামী বছর আর ক্ষমতায় আসবে না। আগামী বছর আপনিও প্রাক্তন বিধায়ক হবেন আর মালিকও প্রাক্তন হয়ে যাবে, তাই তাই ক্ষমতার দম্ভে হুমকি, আস্ফালন দেখানোর আগে ভালো করে ভেবেচিন্তে কথা বলুন।’




