খবর লাইভ : হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিলেন। এই বৈঠককে অনেকেই ‘যুদ্ধবিরতির সেমিফাইনাল’ বলে অভিহিত করছেন ।
এই সময় ট্রাম্প প্রথমে জেলেনস্কির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন, তার পরে ইউরোপীয় নেতাদের নিয়ে সম্মেলন করেন; মাঝখানে ফোন করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে, যা ছিল একটি অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক মোড় ।
ট্ৰাম্প সভা শেষে জানান, পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি ব্যবহারিক ধরনের আলোচনার পরিকল্পনা চলছে। এরপর একটা ত্রিপাক্ষিক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউক্রেন) বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যদিও সময় ও স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন আমেরিকা থেকে নিরাপত্তা ও অস্ত্রের জন্য প্রস্তাব পেয়েছে। ৯ হাজার কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র কেনা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনও হয়নি। আগামী ৭‑১০ দিনের মধ্যেই সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়েছিলেন যে ইউরোপীয় দেশগুলোই প্রথম সারির ‘ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য তা ছাড়বে না ।
এই বৈঠকে উপস্থিত ইউরোপীয় শক্তিশালী নেতাদের মধ্যে ছিলেন: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট ।
এর আগে এই দুই নেতার বৈঠকে উত্তপ্ত কলহ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এ বার, গঠনমূলক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। সাম্প্রতিক উত্তপ্ত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়নি বরং আলোচনার ভঙ্গি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং লক্ষ্য সংকল্পিত ।
শান্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান
এই বৈঠককে অনেকেই যুদ্ধবিরতির সেমিফাইনাল বলে বর্ণনা করছেন, যা ভবিষ্যৎ সংঘর্ষ ব্যবস্থাপনা ও কূটনীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কূটনৈতিক অগ্রগতি ও অস্ত্র চুক্তি
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৯ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র কেনায় আগ্রহ দেখানো হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত চুক্তি বাকি রয়েছে।
ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা
পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা শান্তি প্রক্রিয়ায় এক নতুন ধাপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
ইউরোপীয় ঐক্য
বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা একত্রে অংশ নেওয়ায় কূটনৈতিক দৃঢ়তা এবং ঐক্য প্রমাণিত।




