খবর লাইভ : রাজ্যের ডিএ মামলার নির্দেশিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট শুনানির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে, যদিও আজকের নির্ধারিত শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫% পরিশোধের নির্দেশে সম্মত হলেও, সব টাকা মেটাতে আরও সময় চায়।ডিএ মামলায় রাজ্যকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, মহাজনদের মতো আচরণ, টাকা জমিয়ে অন্যত্র খাটাচ্ছে
সাম্প্রতিক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে নির্দেশ দেয় যে ডিএ বকেয়ার ২৫ শতাংশ অর্থ আদালতে জমা দিতে হবে। রাজ্য সরকার কিছুটা সময় বাড়ানোর আবেদন করায় আদালত শুনানি পিছিয়ে দেয়। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, প্রয়োজনে প্রতিদিন শুনানি চালাতে পারে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ।
আগামিকাল বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যের ডিএ মামলাটি নতুন করে কার্পোরেট বেঞ্চের সামনে উঠবে বলে অভিষেক মনু সিংভীর মারফত জানা গিয়েছে।
বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ মোট ৪১৭৭০.৯৫ কোটি ২০০৬–২০১৫ সময়কালে। নির্দেশ অনুযায়ী ২৫% অর্থ আদালতে জমা দিতে হবে, যার পরিমাণ ১০,৪৪২.৭৩ কোটি টাকা।
পার্থক্য অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কর্মীদের ডিএ ৫৫%, সেখানে রাজ্যের ১৮% মাত্র।
কলকাতা হাইকোর্ট ২০২২ সালে কেন্দ্রের সমতুল্য ডিএ দেওয়ার রায় দিয়েছিল। রাজ্য এটি চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে স্লিপ দায়ের করে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে আদালতে ৫০% জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়, পরে রাজ্যের আর্থিক সমস্যা দাবি শুনেই তা ২৫% এ নামিয়ে আনে।
সরকারি কর্মচারী ও পেনশনাররা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আস্থা রাখছেন এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আশায় রয়েছেন। তারা আশাবাদী যে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়িত হবে।
সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু ডিএ নয়, স্বচ্ছ নিয়োগ ও স্থায়ীকরণের মতো বিষয়গুলিও যেন বিবেচনায় আসে।
রাজ্য সরকারের দাবি অনুযায়ী, এমন বিশাল বকেয়া পরিশোধ করতে গেলে রাজ্যের নির্ধারিত বাজেটের ওপর একধরনের চাপ তৈরি হবে। কিন্তু আদালত দ্রুত শুনানির কার্যক্রম চালিয়ে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চায়।
মহানগরে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ও ডিএ–র দাবিতে তৈরি চাপ রাজ্য রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে।
রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ডিএ নিয়ে নিরাশা ও কর দায়িত্বের চাপ যোগ করেছে তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা। সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনে প্রতিদিন শুনানির নির্দেশ স্পষ্ট করে যে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে শুনানিটি কিভাবে এবং কোন সময় নির্ধারণ করতে পারে তা দেখার বিষয়। মামলার চূড়ান্ত ফলাফল সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎকে স্থিতিশীলতা দিতে পারে কিনা সেদিকেও তাকিয়ে আছে সরকারি কর্মচারীরা।




