খবর লাইভ : প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা প্রতারণা মামলায় রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানিকে আজ তলব করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাঁর গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা প্রতারণা মামলার জবাব চাইতেই এই তলব। সেই সঙ্গে হাসপাতাল বোর্ডে তাঁর একটি লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে যাতে তিনি দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন। তাতে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার সেখানে গিয়েছেন অনিল আম্বানি। তাঁর বয়ান পিএমএলএ আইনের অধীনে রেকর্ড করা হবে।
কীসের অভিযোগ? প্রধানত ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে ২০১৭–২০১৯ সালে আনিল অম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের কোম্পানিগুলো প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। ইডির দাবি , অবৈধভাবে ওই কোম্পানি ইন্টার কর্পোরেট ডিপোজিটের মারফত সেই টাকা অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। তদন্তে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ইয়েস ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ কর্তাদের প্রতি। ইবির অভিযোগ, ঘুষের বিনিময়ে ঋণপ্রদান প্রক্রিয়ায় নানা ফাঁকফোকর রাখা হয়েছে।
মূল অভিযোগে ইডি জানিয়েছে, ঋণপত্র পিছনের তারিখে, কোনও ডিউ ডিলিজেন্স ছাড়াই ঋণ দেওয়া হয়। এছাড়া ঋণ অনুমোদনের আগে টাকা ছাড়া নিয়েও জালিয়াতি হয়েছে। আরও বলা হয়েছে এইসব ঋণ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা রিলায়েন্স গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থায় বিভক্ত ছিল ।
বিশাল ট্রেড লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড নামক এক ছোট সংস্থা সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের চাকরিপত্র পেতে ৬৮.২ কোটি টাকার নকল ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দেখিয়ে দুর্নীতি করেছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই সংস্থার এমডি পার্থ সারথি বিশ্বালকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।
ইডি-র তল্লাশি অভিযানে আনিল অম্বানির গ্রুপের প্রায় ৩৫টি স্থানে অভিযান চালানো হয়, ৫০টি কোম্পানি ও ২৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। এই অভিযানের পর রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং রিলায়েন্স পাওয়ারের শেয়ার ৫%–১৪%–১৫% কমেছে যথাক্রমে গত সপ্তাহ ও সাম্প্রতিক পাঁচ দিনের মধ্যে ।
তবে, গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং কোনও অনৈতিক আচরণ করা হয়নি। অভিযোগের চেয়ে বিবরণ কিছুটা অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ।



