Special News Special Reports State

পাকিস্তানি নাগরিক বৃদ্ধা ফতেমা বিবির নাম ভারতের ভোটার তালিকায়, গ্রেফতার চন্দননগরে

0
(0)

খবর লাইভ : পাকিস্তানের নাগরিক ফতেমা বিবির নাম ভারতের ভোটার তালিকায় কেন উঠে গেল, এই প্রশ্ন উঠেছে তার গ্রেফতারের পর। ৪৫ বছর ধরে চন্দননগরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করা ফতেমা বিবি, যিনি আদতে পাকিস্তানের নাগরিক, শনিবার সকালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, ফতেমা বিবি কোনও অপরাধ করেননি এবং বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জানা গিয়েছে, চন্দননগরের ৬০ বছরের এই বৃদ্ধা ১৯৮০ সালে টুরিস্ট ভিসায় ভারতে এসেছিলেন। ১৯৮২ সালে চন্দননগরের এক বেকারি মালিক মুজফফর মল্লিককে বিয়ে করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ফতেমার জন্ম ভারতে, হুগলির নালিকুলে তার পূর্বপুরুষের বাড়ি। তবে, পাকিস্তানে গিয়ে তার পরিবার সেখানে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে এবং এরপর ভিসা নিয়ে ভারতে চলে আসেন ফতেমা। তিনি এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন।

গত শনিবার, চন্দননগর পুলিশ ফতেমাকে আদালতে হাজির করে। আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনায় প্রতিবেশীরা চরমভাবে বিস্মিত। অনেকেই জানিয়েছেন, তারা জানতেন না যে ফতেমা পাকিস্তানের নাগরিক। একজন প্রতিবেশী বলেন, ৪০ বছর ধরে এ দেশে থাকছেন, বিয়ে করেছেন, ভোট দেন। এই মহিলা যদি পাকিস্তানে ফিরে যান, তবে তার কোনও জায়গা থাকবে না।

পহেলগাঁও কাণ্ডের পর পাকিস্তানি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, তার পর রাজ্য প্রশাসনও সতর্ক হয়ে উঠেছে। চন্দননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে ফতেমার খোঁজ নিচ্ছিল, যার ফলস্বরূপ তার গ্রেফতারি হয়েছে।

রাজনৈতিক নেতারা এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। চন্দননগর পুরসভার ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল বলেন, “৪৫ বছর আগে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। তবে, ফতেমার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা উচিত।” সিপিএম নেতা ঐকতান দাশগুপ্ত বলেছেন, “এটি দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাফিলতি, যারা নোটিফিকেশন দেয়নি এবং এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা গোপাল চৌবে অভিযোগ করেছেন, “শুধু চন্দননগর নয়, আশপাশের এলাকায় অনেক পাকিস্তানি নাগরিক বসবাস করছেন। এদের অনেকেই আধার, প্যান এবং রেশন কার্ডও পাচ্ছেন। প্রশাসন এতদিন কেন নজরদারি করেনি?”
এই ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, কিন্তু স্থানীয়রা ফতেমার পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা উচিত।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *