Special News Special Reports State

ক্ষুব্ধ যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা, বলছেন সুপ্রিম-রায় মৃত্যুদণ্ডের সমান

0
(0)

খবর লাইভ : বিচারের নামে প্রহসন হল। হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে বাতিল হয়ে গেল ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে এসএসসি-র পুরো প্যানেল। চাকরি হারাল ২৫,৭৫২ জন। যোগ্য-অযোগ্য সবার চাকরি বাতিল করে দেওয়া হল। রাতারাতি বেকার হয়ে গেলেন সবাই। তাই এই রায়কে মৃত্যুদণ্ডের শামিল বলে ব্যাখ্যা করলেন চাকরিহারা-রা।
এতদিন ধরে মামলা চলল। জমা পড়ল বহু নথি। তারপরও যোগ্য অযোগ্য আলাদা করতে পারল না কোর্ট। মুড়ি-মুড়কি এক করে সবাইকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হল। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম রায়ের পর নিজেদের যোগ্য বলে দাবি করে চাকরিহারাদের একাংশ বললেন, এই রায় মৃত্যুদণ্ডের সমান। প্রশ্ন তুললেন, এত নথি জমা পড়ার পরেও কেন যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা গেল না? এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দক্ষিণেশ্বরের ভারতী ভবন গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা অদিতি বসু বলেন, এতদিন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে এসেছি। আজ জানতে পারলাম, আমরা ভুল। এই রায় আমার কাছে মৃত্যুদণ্ডের সমান। আমার মতো হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা সঙ্গে অন্যায় হল। এই রায়ে বহু যোগ্য ও নিরপরাধ মানুষ সাজা পেল। যা অন্যায়। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।
ক্ষোভ উগরে দিলেন ২০১৬ সালের প্যানেলে ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষিকা রিজিয়া খাতুনও। তাঁর কথায় বলেন, একজন মানুষ ক’বার পরীক্ষা দেবে? আমাদের জীবন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিল আদালত। সদ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রশ্ন, আইনের প্রথম শর্তেই মানা হল না। অপরাধীকে শাস্তি দিতে গিয়ে যেন কোনও নিরপরাধ শাস্তি না পায়, সেটাই সর্বাগ্রে দেখে আদালত। কিন্তু এক্ষেত্রে কে বৈধভাবে চাকরি পেয়েছে, আর কে অবৈধভাবে পেয়েছে, তা দেখাই হল না। সিবিআই, এসএসসি সকলেই তালিকা দেওয়া সত্বেও যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা হল না? সবাইকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হল। যারা সাদা খাতা জমা দিয়েছিল, তাদের টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। তাহলে সবার চাকরি বাতিল করা হল কেন? যারা অযোগ্য, সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছে তাদেরই শুধু বাতিল করা হত।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানায়, যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালের প্যানেলের সব চাকরি বাতিল। সবাই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই রায়ে স্বভাবতই ক্ষুব্ধ চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *