পীযূষ চক্রবর্তী – রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও অবনতির অভিযোগ তুলেছেন সমাজের প্রায় সব মহলই। দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়ে জেলবন্দি রয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী সহ শিক্ষা দফতরের একাধিক কর্তা। সম্প্রতি আরজি কর কাণ্ডের জেরে সিবিআই তদন্তে হাসপাতালেও দুর্নীতি ধরা পড়েছে। যার কারণে গ্রেফতার হতে হয়েছে আরজি কর কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে। এবার আরও বিস্ফোরক অভিযোগ জমা পড়ল শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে। রাজ্যের কারখানাগুলোই শ্রমিকেরা কাজ করলেও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় না বলে অভিযোগ তুলে এক চিকিৎসক চিঠি দিলেন শ্রমমন্ত্রীকে। আর এই চিঠি দেওয়ার ঘটনায প্রমাণ করে রাজ্যে শিল্পকেন্দ্রগুলোই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে আদৌ চিন্তিত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ?
প্রসঙ্গত, এরাজ্যে দিনের পর দিন কলকারখানার সংখ্যা কমছে। বেকারত্বের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। তবুও কয়েক হাজার কারখানা রয়েছে রাজ্যে। কয়েক লক্ষ শ্রমিক প্রতিদিন সেই কারখানাগুলোতে কাজ করেন। লোহা, রবার, পাইপ, সিমেন্ট, জুয়েলারী, প্লাস্টিক সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ কারখানা রয়েছে। কিছু কিছু কারখানা রয়েছে যেগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের সিফিলিস, ক্যান্সার, হাঁপানির মতো মারণ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে বা মাসে দুবার করে এই সমস্ত কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা দরকার। ভিন রাজ্যের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলেও পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য সেভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় না বলেই অনেকে দাবি করেছেন। এমতাবস্থায় এক চিকিৎসক যিনি শিল্প স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা হিসেবে রয়েছেন, তিনি শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটককে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নজর দেওয়া যাতে হয় সেই আর্জি জানিয়েছেন।
মলয়কে ফোন করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এক চিকিৎসা বলেন, ‘বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিকরা কাজ করলেও তাঁদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষ যেমন উদাসীন তেমনি রাজ্য সরকার নীরব। অবিলম্বে ওই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবা উচিত সরকারের। তাতে কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে সময় মতো চিকিৎসা করিয়ে বাঁচানো সম্ভব হবে।




