খবর লাইভ :কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাইয়ের ছেলে ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তার স্ত্রী এবং সন্তান রয়েছেন। ব্যাপক ধূমপান করতেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, যে জন্য তার শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা ছিল। বামপন্থী পরিবারে ১৯৪৪ সালে জন্ম হয়েছিল তার।
প্রথমে ছাত্র আন্দোলন, তারপরে দলে যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের কাজে জড়িয়ে থাকলেও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জীবনে সবসময়েই সাহিত্য-সংস্কৃতি গুরুত্ব পেয়েছে। নিজেও অনেক কবিতা, নাটক লিখেছেন, করেছেন অনুবাদও। বামফ্রন্ট যেবার ক্ষমতায় এল, সেই ১৯৭৭ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কাশীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথম নির্বাচনে জেতেন। প্রথম বামফ্রন্ট সরকারে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরে দফতরটির নাম বদলিয়ে হয় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।
আরও পড়ুনঃ আজ শেষ যাত্রায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য,পিস ওয়ার্ল্ড থেকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ
পরের নির্বাচনে ১৯৮২ সালে তিনি ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। তবে কেন্দ্র বদল করে ১৯৮৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জিতে এসেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফত, স্বরাষ্ট্র, পুর ও নগরোন্নয়ন, তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী থেকেছেন তিনি। জ্যোতি বসুর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ১৯৯৩-’৯৪ সালে বছরখানেক মন্ত্রিসভার বাইরে ছিলেন। জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব ছেড়ে দেন ২০০০ সালে, তারপর ওই পদে বসেন তিনি। পরের বছর, ২০০১ এবং ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে তার নেতৃত্বেই বামফ্রন্ট বিজয়ী হয়েছিল। তিনি ২০০০ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ২০১১-র নির্বাচনে ওই যাদবপুর কেন্দ্র থেকেই পরাজিত হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। একই সঙ্গে বামফ্রন্টও বিপুল ভোটে হেরে যায় সে বছর। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা ব্যানার্জী।
তার প্রায় ১১ বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সমালোচনা হয়েছে প্রচুর। যেভাবে ২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে আসার পরে তিনি পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের চেষ্টা করেছিলেন এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, তবুও তাকে বলা হয়ে থাকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘শেষ ভদ্রলোক’।শিল্পায়ন যে প্রয়োজন, তা নিয়ে ওনার কোনও সন্দেহ ছিল না, কিন্তু যে পদ্ধতিতে জমি নিয়ে তার সরকার শিল্প গড়তে গিয়েছিল, তা
তার ব্যক্তিগত সততা নিয়ে কখনও কোনও প্রশ্ন তোলেননি তার ঘোর বিরোধীরাও। সমালোচনা যেমন তার বিরোধীরা করেছেন, দলেও হয়েছে তার সমালোচনা। আবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও দলের নানা নীতি, পুরনো মূল্যায়নের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই মুখ খুলেছিলেন।
যেমন বামপন্থীদের ধর্মঘট ডাকার সংস্কৃতির প্রবল বিরোধী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তেমনই রবীন্দ্রনাথ এবং সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে ভারতীয় কমিউনিস্টদের মূল্যায়নেও যে ভুল ছিল, সেটাও প্রকাশ্যে বলেছিলেন তিনি।




