Special News Special Reports State

তৃণমূলও ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেয়! বোমা ফাটালেন কার্তিক মহারাজ

0
(0)

খবর লাইভ : নির্বাচনী প্রচার থেকে তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নাম নিয়ে সমালোচনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনার পাল্টা হিসাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের। এত কিছু যাঁকে নিয়ে সেই কার্তিক মহারাজ এ বার বোমা ফাটালেন। দাবি করলেন, বিজেপি তো বটেই তৃণমূলের তরফেও তাঁকে এই নির্বাচনে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

১২ বছর ব্রহ্মচর্য পালনের পর কলকাতার বালিগঞ্জ শাখায় থেকে সন্ন্যাস জীবন শুরু।

সন্ন্যাস গ্রহণের কিছু দিনের মধ্যেই দায়িত্ব পান মুর্শিদাবাদের। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় সংগঠন বিস্তারের ভার পড়ে তার উপরে। মুর্শিদাবাদের গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বইতে দেখেছেন তিনি। গ্রামীণ এলাকায় একের পর এক স্কুল প্রতিষ্ঠা করে পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। সনাতনী সংগঠনের অবৈতনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্যও অবারিত দ্বার।

তাঁর অনুগামীরা বলেন, এক জন হিন্দু সন্ন্যাসীর সংখ্যালঘু এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সহজ ছিল না। তার বিরুদ্ধে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল প্রথমেই। সে সব বাধা কাটিয়ে অচিরেই সব সম্প্রদায়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেন কার্তিক মহারাজ।
বেলডাঙা, অরঙ্গবাদ, ফরাক্কা, জলঙ্গী মিলিয়ে চারটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় তার উদ্যোগে। সব মিলিয়ে আট হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করে, যার মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। শুধু বিদ্যালয় নয় মুর্শিদাবাদের অভিশাপ বাল্যবিবাহ রুখতে একাধিক প্রকল্প রূপায়িত হয় কার্তিক মহারাজের উদ্যোগে। মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ, নানাবিধ হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরি, বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার প্রয়াস গ্রহণ করা হয়। দু’শোর বেশি অনাথ শিশুর পড়াশুনার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। এক হাজারেরও বেশি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে আনতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। মহারাজের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় থেকে রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষায় দশম স্থান অধিকার করেছিল এক আদিবাসী ছাত্রী, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের ইতিহাসে যা আজও সর্বকালীন রেকর্ড।
কার্তিক মহারাজ বলেন, ‘‘শুধুমাত্র রায়গঞ্জ নয়, বহরমপুর ও কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকেও আমি প্রার্থী হচ্ছি বলে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, আমি সন্ন্যাসী মানুষ, রাজনীতিতে কোনও উৎসাহ নেই।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে কার্তিক মহারাজ বলেন, ‘‘আমাকে খুব বেদনাহত করেছে। এটা ব্যক্তি হিসাবে আমার অপমান নয়, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের দীর্ঘ দিনের সেবব্রতী পরম্পরার অপমান।’’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *