Special News Special Reports State

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে লোকের জায়গা দখল করল হুগলি জেলা পরিষদ, জাহাঙ্গীরদের মতো ঠিকাদারদের দলে পদ কিভাবে সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে

0
(0)

খবর লাইভ : লোকের জমি কেড়ে নেওয়ায় কি এখন তৃণমূলের প্রধান কাজ? তা সে সাংবাদিক হলেও রেহাই নেই। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বেআইনিভাবে রাস্তা করাল হুগলি জেলা পরিষদ। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

হুগলির জাঙ্গিপাড়া থানার অন্তর্গত রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা পীযূষ চক্রবর্তী। পেশায় সাংবাদিকতার কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় কলকাতাতেই থাকতে হয়। সম্প্রতি তাঁর বাড়ির ভিটের উপর দিয়ে একটি ঢালাই রাস্তা করার সিদ্ধান্ত নেয় হুগলি জেলা পরিষদ। যেখান দিয়ে রাস্তা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেটি রাস্তা বলে উল্লেখ নেই। হিজুলি দোলতলা থেকে সোমনগর শিবতলা পর্যন্ত রাস্তা বলে উল্লেখ রয়েছে। তা সত্ত্বেও হুগলি জেলা পরিষদ স্থানীয় কিছু তৃণমূল কর্মী ও নেতার মদতে ওই জায়গা দিয়েই বেআইনিভাবে রাস্তা করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পীযূষের পরিবারের পক্ষ থেকে অবশ্য জেলা পরিষদের কাছে অনুরোধ করেছিল ওই রাস্তাটি যাতে ১০ ফুটের পরিবর্তে ৭ ফুট করা হয় তার জন্য। কারণ তাঁদের ভিটেটি একেবারেই স্বল্প পরিসর জায়গায় রয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া জানিয়েছিলেন ৭ ফুট-ই হবে রাস্তাটি।

আরও পড়ুনঃ কাগজ দিয়েই মাপা যাবে সুগার লেভেল! আইআইটির গবেষণায় বড় আবিষ্কার

সম্প্রতি পারিবারিক একটি মামলার জেরে ভিটের ওই দাগ নম্বর সহ সমস্ত জমির দাগের উপর আদালত নির্দেশ দেয় কোনও কিছু না করার বা ক্রয় ও বিক্রয় না করার। জেলা পরিষদকে সেই কথা জানানো সত্ত্বেও গত ২৭ মার্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে অন্য রাজনৈতিক দলের কয়েকজন সমর্থক অনুপ চক্রবর্তী, অরূপ চক্রবর্তী, স্বরূপ চক্রবর্তী, মুক্তিনাথ চক্রবর্তী, অলোক মুখোপাধ্যায় এবং এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত পাশের সোমনগর গ্রামের বাসিন্দা দেবব্রত রায়, দীপু বাগ, কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক মুখোপাধ্যায় বাড়ির কাছে এসে হাঙ্গামা করতে থাকে। এবং জোর করে প্রায় ৫০ মিটার জায়গা দখল করে নিয়ে ঠিকাদারকে ১০ ফুট চওড়া রাস্তা করাতে বাধ্য করে। আদালতের নির্দেশ তারা মানে না বলে জানাতে থাকে। পাশাপাশি ওই ঠিকাদার সংস্থার পক্ষ থেকেও আদালতের নির্দেশ মানবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। পীযূষের বাড়ির সামনে অবশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ১০ মিটার মতো জায়গা ঢালাই না করে ছেড়ে দেওয়া হয় যাতে বর্ষায় চরম অস্বস্তির মধ্যে পড়ে পীযূষের পরিবার।
সমস্ত জায়গায় জানানোর পরেও তৃণমূল জমানায় এত নোংরামি নিয়ে সকলে ছিঃ ছিঃ করছে।
হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যা তা তিনি রাখতে পারেননি। যারা পীযূষের বাড়ির সামনে গোলমাল করতে এসেছিল তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই অখ্যাতি রয়েছে। দীপু বাগ বলে যে ছেলেটি সব থেকে বেশি বজ্জাতি করছিল প্রতিদিন দুপুরে সোমনগর রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দির থেকে মিড ডে মিলের খাবার তার বাড়িতে যায় বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। দেবব্রত রায়ের বর্তমানে আর্থিক অবস্থা বেশ সচ্ছল। এক সময় জরির কাজের কর্মচারী কিভাবে অর্থনৈতিকভাবে ফুলেফেঁপে উঠল তা নিয়ে অনেকেই দেবব্রতর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেছেন।

দেবব্রত স্থানীয় ঠিকাদার তথা রাধানগর অঞ্চল যুব তৃণমূলের সভাপতি জাহাঙ্গীর মন্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিকাদারদের দলে কোনও জায়গা নেই বললেও জাহাঙ্গীররা অবশ্য কোনও এক নেতার মাধ্যমে সভাপতি পদ যেমন পান তেমনি এই এলাকার শেখ শাহজাহান হিসেবে পঞ্চায়েতের যাবতীয় ক্ষমতা ভোগ করতে থাকেন।

এলাকার পুরনো দিনের কর্মীদের দীর্ঘদিন দূরে সরিয়ে রেখে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত জাহাঙ্গীরদের হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেন কোনও এক ব্যক্তি। ড্রেনের দুর্নীতি থেকে শুরু করে, রাস্তাঘাট, শৌচাগার নির্মাণ সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে যাদের বিরুদ্ধে তাদের হাতেই যদি ক্ষমতা চলে যায় তবে শাসকদলের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *