খবর লাইভ : নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে শোকজ লেটার পাওয়ার পরও এতটুকু বদলাননি দিলীপ ঘোষ। উল্টে টার্গেট করলেন ইসি-কেই। ‘মেসো’ বলে কমিশনকে কটাক্ষ করলেন গেরুয়া নেতা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুরুচিকর ভাবে আক্রমণ করার ‘অপরাধে’ বর্ধমান দুর্গাপুরের বিজেপি প্রার্থীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজন মতো উত্তর দেওয়া হবে জানিয়েও দিলীপ বলেন, কী এমন ঘটেছে যে কারণে তৃণমূলের ১০ প্রতিনিধি দল ‘মেসোর কাছে চলে গেছে অভিযোগ করতে’। এরপরই তৃণমূলের তরফে জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন কমিশনকে ভয় পেয়েই এমন মন্তব্য করছেন পদ্মনেতা। আসলে এই বিজেপিই এতদিন ধরে এই দিলীপ ঘোষকেই প্রশ্রয় দিয়েছে। চাপে পড়ে এখন দলের তরফে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হলেও, আসলে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপে ভয় পাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি বলেই মত তাঁর।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুরুচিকর আক্রমণ করার দিলীপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে পদ্ম নেতার এহেন অসংসদীয় আচরণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে দাবি করেন। তারপরই শোকজ নোটিশ পাঠায় কমিশন। কিন্তু আজ সকালে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষের কথায় সেই পুরনো ভঙ্গি। অনুশোচনার লেশমাত্র নেই। সুকান্ত মজুমদারকে এই নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কার্যত বিষয়টি এগিয়ে গেছেন। স্বপক্ষ সমর্থনে দিলীপ ঘোষ নয়া যুক্তি তৈরি করার চেষ্টা করলেও তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সব থেকে বেশি ব্যবহার করেছে বিজেপি। নানা সময় একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হতে দেখা গেছে গেরুয়া নেতাদের। এখন কি তারা ভয় পাচ্ছেন? এদিকে আবার মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কুরুচিকর ভাষা, জোড়া শো-কজ়ের পর দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। বুধবার দুর্গাপুর থানায় দিলীপের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করার অভিযোগ দায়ের করেন দুর্গাপুরেরই এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এত মানুষের মধ্যে দাঁড়িয়ে এবং একাধিক সংবাদমাধ্যমের সামনে যে কথা উনি বলেছেন, তাতে রাজ্যের মহিলা শুধু মুখ্যমন্ত্রীর সন্মানহানিই হয়নি, রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে আমাদেরও সম্মানহানি হয়েছে বলে আমি মনে করি। তাই শুধু ক্ষমা চাইলে তা মিটে যায় না।’’




