খবর লাইভ : ফের কাঠগড়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ছাত্রীর অভিযোগ, তিনি ওই ছাত্রীকে পরীক্ষার হল থেকে তুলে নিয়ে পরোক্ষে যৌন চাহিদা মেটানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ছাত্রীর কাছে দুই সিনিয়র ছাত্রের মাধ্যমে সরাসরি ওই প্রস্তাব দেন তিনি। ছাত্রীর অভিযোগ, পরীক্ষা শেষের পরই তাঁর বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের দুই ছাত্র তাঁকে বলেন, ‘‘ভাল ভাবে পরের পরীক্ষাগুলো দিতে চাইলে স্যরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে হবে। বাকি কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, তা আমরা দেখে নেব!’’
ওই ছাত্রী একটি ইমেলের মাধ্যমে ঘটনাটি জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত শীর্ষ পদাধিকারীকে।
আরও পড়ুনঃ রঞ্জি খেলছেন না ‘অবাধ্য’ শ্রেয়স, ঈশানের মতো শাস্তি হবে কি তাঁরও?
ইমেলে ওই ছাত্রী কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, তিনি কলকাতার বাসিন্দা নন। রাজ্যের গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে পড়াশোনা করতে এসেছেন। কলকাতার নামী বিশ্ববিদ্যালয় বলে জানতেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে। তাই অনেক আশা নিয়ে সেখানে এসেছিলেন স্নাতকোত্তর পড়তে। ছাত্রী লিখেছেন তিনি কখনও পরীক্ষায় খারাপ ফল করেননি। মাধ্যমিক ৬০ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৭৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাংলায় সাম্মানিক স্নাতকও হয়েছেন ৭৪ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে। যাদবপুরে ভর্তির পরীক্ষায় ১০০-র মধ্যে ৯০ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি।
ছাত্রী লিখেছেন, ঘটনার শুরু গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর প্রথম বর্ষের প্রথম পরীক্ষার দিন। পরীক্ষার হলে আচমকাই ওই অধ্যাপক সবার সামনে তাঁর নাম ধরে ডাকেন এবং বলেন, তাঁকে শারীরিক তল্লাশি নিতে হবে, কারণ তিনি চিরকুটে পরীক্ষার উত্তর লিখে এনেছেন। ছাত্রীর কথায়, ‘‘পরীক্ষার হলে আমার পুরুষ সহপাঠীরাও ছিল। কিন্তু তাঁদের সামনে আর কোনও মহিলা সহপাঠীকে এমন তল্লাশির কথা বলা হয়নি। একমাত্র আমাকেই সবার সামনে অস্বস্তিকর ভাবে শরীরে হাত দিয়ে তল্লাশি করা হয়। ঘটনাটা আমার কাছে অপমানজনক লাগছিল। কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। কারণ, ওই অধ্যাপক বলেছিলেন, হয় তল্লাশি করতে দিতে হবে, নয়তো পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।’’
বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর প্রথম বর্ষের প্রথম সেমেস্টারের দ্বিতীয় পরীক্ষা। ছাত্রী জানিয়েছেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়ার পর হঠাৎই পরীক্ষার হলে যিনি গার্ড দিচ্ছিলেন, তিনি তাঁর নাম ধরে ডেকে বলেন তাঁকে ওই অধ্যাপকের ঘরে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
ওই অধ্যাপক বাংলায় তাঁকে বলেন, ‘‘আমি যা চাইছি, তুমি যদি তা না করো এবং যদি আমার চাহিদা না মেটাও তবে আমি তোমাকে চিরতরে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার করে দেব।’’ওই অধ্যাপক তাঁকে এর পর টেনে নিয়ে যান তাঁর বিভাগীয় প্রধানের কাছে। ছাত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও করেন। কিন্তু সৌভাগ্যবশত বিভাগীয় প্রধান আস্থা রাখেন ছাত্রীর উপরেই। তাঁকে পরীক্ষার হলে যাওয়ার অনুমতিও দেন তিনি।
ইমেলে ছাত্রী লিখেছেন, তাঁরাই ওই অধ্যাপকের সঙ্গে শারীরির সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তাব দেন তাঁকে। এমনও বলেন, ওই দিনই ‘অধ্যাপকের সঙ্গে গিয়ে একান্তে দেখা’ করতে হবে। কারণ, যৌন সম্পর্কই ‘অধ্যাপকের রাগ’-এর হাত থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। ছাত্রী লিখেছেন, ‘‘আমি বুঝতে পারি অধ্যাপকের কথা বুঝতে না পারায় তিনি ওই ছাত্রদের দিয়ে তাঁর প্রস্তাব পাঠিয়েছেন আমার কাছে।’’




