খবর লাইভ : বিদ্যুতের বিলে অনিয়মের জেরে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে ডব্লিউবিএসইডিসিএল-এর গ্রাহক তাঁদের বিদ্যুতের বিল মেটাতে গিয়ে না খেতে পেয়ে মরে যাওয়ার জোগাড়। বিশেষ করে হুগলির চণ্ডীতলা সার্কেলের অধীনে থাকা গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিল দেখে মাথায় হাত পড়েছে। গ্রাহকরা চরম সমস্যায় পড়লেও চণ্ডীতলা সার্কেলের বিদ্যুৎ আধিকারিক প্রীতম সিং অবশ্য নাকে সরষের তেল দিয়ে দিব্যি আছেন। বিরোধীরা বিদ্যুতের বিল নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিদ্যুতের গড়মিলের কবলে পড়েছেন চণ্ডীতলার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাও।বিদ্যুতের বিল বাড়ছে না বলে বারবার সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে তার উল্টো চিত্র। মাস ছয়েক আগেও বিদ্যুতের সর্বনিম্ন বিল ছিল মিটার প্রতি ২৫ টাকা প্রতি মাসে। অর্থাৎ প্রতি তিন মাস অন্তর একটি মিটারের গ্রাহককে দিতে হতো ৭৫ টাকা। কিন্তু সেই বিলটিই এখন কাউকে কাউকে প্রায় ৯০০ টাকা দিতে হচ্ছে।
বারবার বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।এওই যেন ভূতুড়ে বিল। এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে যে গ্রাহককে তিন মাসের জন্য সর্বনিম্ন মাত্র ৭৫ টাকা দিতে হয়েছিল, এখন তাঁকেই কিনা তিন মাসের জন্য দিতে হচ্ছে ৮৮১ টাকা। মাত্র ৭ ইউনিটের বিল যদি ৮৮১ টাকা হয়ে থাকে তবে প্রতি ইউনিট তাঁকে দিতে হচ্ছে ১২৬ টাকা মতো। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নিজেকে জনদরদী সরকার বললেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে চণ্ডীতলা এবং ডানকুনি এলাকায়। চণ্ডীতলা এলাকার একাধিক গ্রাহক এই সমস্যায় জর্জরিত। চণ্ডীতলার বিদ্যুৎ আধিকারিক প্রীতম সিং অবশ্য এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন ভাজা মাছটি উল্টেও খেতে পারেন না। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুতের বিলে কোনও ভুলভ্রান্তি নেই।বিদ্যুতের বিল লাগামহীন হওয়াতে সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস একযোগে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছে। সবকটি বিরোধী দলই আগামী দিন বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, ‘আগে ১০০ দিনের কাজ, গৃহ প্রকল্প, রেশন সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প থেকে কাঠমানি খেত তৃণমূল নেতারা। সরকারের একাংশও বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। এখন সেই সমস্ত কাজগুলো থেকে টাকা না পাওয়াতে বিদ্যুতের বিল ১০ গুণ বাড়িয়ে মানুষকে শোষণ করা হচ্ছে। আমরা আন্দোলনে নামছি।
‘সিপিএম নেতা রবীন দেবও বিদ্যুতের বিলে গরমিলের জন্য আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হচ্ছে। আমরা আগামী দিন বৃহত্তর আন্দোলনে যাচ্ছি। ইনসাফ যাত্রা থেকেই সেই আন্দোলনের সূচনা হবে।’বারবার বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বা এসএমএস-এর উত্তর দেননি। বিদ্যুতের বিল আকাশছোঁয়া হওয়ায় সাধারণ মানুষ না খেয়ে মরতে বসেছেন।




