খবর লাইভ : ময়নাতদন্তের রিপোর্টে খুনের মতো আঘাতের কথা উল্লেখ থাকলেও খুনের ধারা যোগ করা হল না কেন, এই প্রশ্ন তুলে এবার বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারকে তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট। এদিন ব্যারাকপুর পুলিস কমিশনারেটের কমিশনার অলোক রাজোরিয়াকে সশরীরে হাজিরা দিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। ব্যরাকপুরের পুলিশ কমিশনার অলোক রাজোরিয়াকে তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের। তদন্তে গাফিলতি কেন প্রশ্ন সিপি অলোক রাজোরিয়াকে।
আদৌ কি খুনের তদন্ত করছিলেন, প্রশ্ন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের। রাজ্যে এমন সিপি ও এই ধরণের তদন্তকারী অফিসার থাকলে তদন্তের অবস্থা কি হবে? প্রশ্ন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের। এরা যা তদন্ত করছেন প্রত্যেককে পুলিশের মেডেল দেওয়া উচিৎ। রাজ্যের গর্ব তো আপনারা, বিদ্রুপ বিচারপতি দেবাংশু বসাকের। তদন্তের গাফিলতির দায় এড়াতে পারেন না এসপি। লঘু ধারা দেওয়ার কারণ কী? অভিযুক্তদের হেফাজতে রেখে সিবিআই জেরা হওয়া উচিত, মন্তব্য বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চের।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৩ জুন। খড়দহ থানা এলাকার টিটাগড়ের লক্ষ্মীঘাট এলাকার ঘটনা। বাড়ি ভাড়ায় টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে আহত হন বাড়ির গোবিন্দ যাদব। গুরুতর আহত অবস্থায় গোবিন্দকে প্রথমে বিএন বোস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাঁকে পরে আর জি কর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ওইদিনই মারা যান গোবিন্দ যাদব।ঘটনার দিনই মুন্নী যাদবের আত্মীয় ঋত্বিক যাদব, জ্যোতি যাদব, মুন্নী যাদব, আমন রাজভর-সহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে খড়দহ থানায় অভিযোগ জানান গোবিন্দর প্রতিবেশী বিজয় কুমার সাউ। এরপর আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আমান রাজভর-সহ বেশ কয়েক জন অভিযুক্ত। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলায় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ মৃতের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। ওই রিপোর্টে খুনের মতো আঘাতের কথা উল্লেখ থাকলেও ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০২ ধারার বদলে শুধু মাত্র ৩০৪ নম্বর অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা যোগ করে মামলা করা হয়েছে। এতেই বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত।




