খবর লাইভ : নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকার প্রয়াস চালালেও অনেক সময় খামতি থেকে যায়। অনেক প্রতিভাকেই অর্থের অভাবে অকালে বিনষ্ট হয়ে যেতে হয়। যে প্রতিভাগুলো হয়তো পরবর্তী সময়ে নামকরা চিকিৎসক বা বিজ্ঞানী হতেই পারতো। তবে অর্থের অভাবে তাঁদের সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। এবার সেই স্বপ্ন যাতে অকালে ঝরে না যায় তার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেই প্রতিভাগুলোকে বাঁচাতে চাইছেন খানাকুলের উদনা গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবক শেখ সাকিম। খানাকুলের ভূমিপুত্র তথা ভারতের নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়ের অন্যতম উত্তরসূরি যেন এই তরুণ যুবক।

বছর ছত্রিশের সাকিম বরাবরই মানুষের সেবায় নিজেকে মেলে ধরেছেন। তা সে কোনও মানুষ টাকার অভাবে সংসার চালাতে না পারলেই হোক বা কোনও মানুষ মেয়ের বিয়ে দিতে না পারার মতো অবস্থায় থাকলে সবার আগে সাহায্য করতে এগিয়ে যান সাকিম। অনেক সময় কোনও মেয়ের বিয়ে আটকে গেলে সিংহভাগ টাকায় সাহায্য করে উদ্ধার করেছেন খানাকুলের এই যুবক। কিছুদিন আগেই অবশ্য সাকিম নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির বেশ কিছুটা জমি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও শিক্ষা কেন্দ্রের জন্য দান করেছেন। তবে তাতেই তিনি থেমে থাকতে নারাজ। সম্প্রতি গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন-পাঠনের জন্য বই কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে ওই ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়ে সেদিকে নজর দেওয়া সবকিছুই করছেন সাকিম। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার হাতে বই তুলে দিয়েছেন এই যুবক। ভবিষ্যতে যাতে ওই ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ার ক্ষেত্রে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে সেদিকেও নজর রাখছেন সাকিম।
শুধুমাত্র উচ্চ পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেই নয়, ছোট ছোট বালক-বালিকারাও যাতে ঠিকঠাক ভাবে পড়াশোনা করতে পারে সেদিকেও নজর রাখছেন তরুণ এই সমাজসেবক। খানাকুলের বাসিন্দা রমেন দাস বলেন, ‘সাকিমের মতো সমাজসেবকরা আছেন বলেই আজকে গরিব ছাত্র-ছাত্রীরা স্বপ্ন দেখছেন। ঈশ্বর ওঁর মঙ্গল করুন।’
মানুষকে এত সাহায্য করলেও কোনওরকম প্রশংসা শুনতে নারাজ সাকিম। তিনি বলেন, ‘রামমোহন রায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, বিদ্যাসাগররা তো নিজেদের জন্য কিছুই করেননি। সবই সমাজের জন্য করেছেন। আমি তো সমাজের স্বার্থে নামমাত্র করছি, এতে প্রশংসা নেওয়ার কিছুই নেই।’




