খবর লাইভ : সম্প্রতি পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনার পর পরস্পরকে আক্রমণ করেছিলেন তাঁরা। ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেছিলেন, ‘‘নওশাদ আসলে সমাজবিরোধী। ভাঙড়ে যবে থেকে এসেছে অশান্তি করে যাচ্ছে।’’ আর পাল্টা ফুরফুরা শরিফের এই পিরজাদা বলেছিলেন, ‘‘গুন্ডাবাহিনী নিয়ে ক্যানিং থেকে ভাঙড়ে এসেছেন শওকত মোল্লা।’’
কিন্তু সোমবার বিধানসভায় নওশাদ-শওকতকে দেখা গেল পরস্পরের পাশাপাশি, মুখে শান্তির বাণী নিয়ে। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ বিধানসভায় এসেছিলেন কমিটির বৈঠকে যোগদান করতে। সেই সময় বিধানসভায় আসেন শওকতও, বৈঠক থাকায় গাড়ি বারান্দায় নেমেই চলে যাচ্ছিলেন বৈঠক করতে। দু’জনের গলাতেই তখন শান্তিস্থাপনে দৃঢ় সঙ্কল্প। নওশাদ বললেন, ‘‘শওকতদা আমার দাদার মতো, তাঁকে পাশে নিয়েই আমি শান্তি ফেরাতে চাই।’’
নওশাদকে পাশে নিয়ে তৃণমূল নেতা শওকত বলেন, ‘‘আমরা সবসময় শান্তির পক্ষে। শান্তিস্থাপনের পক্ষেই আমরা কাজ করে যাব। ওরা (নওশাদ) যদি ভাঙড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায় তা হলে আমরা সবসময় রাজি।’’ বাংলার রাজনীতি কারবারিদের একাংশের মতে, বিধানসভায় মুখোমুখি হয়ে যাওয়াতেই দুই নেতা সৌজন্যবশত এমন কথা বলেছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “উনি (শওকত মোল্লা) তো আমার বড় ভাই। আমি বলব, পঞ্চায়েত-বিধানসভা ভোটের জন্য় আমাকে গাইড করুন।” তাঁর সেই সম্বোধন মেনে নেন শওকতও। বলেন, নিশ্চয়ই গাইড করব। তবে ভাইকে বলব, ভাঙড়ে অশান্তিটা একটু কম করতে। তৃণমূল বিধায়কের খোঁচার জবাবে বহিরাগত তত্ত্বও টেনে আনেন নওশাদ। তাঁর কথায়, “বড় ভাই তো জানেন, কোথায় কীভাবে অশান্তি হচ্ছে। কারা বহিরাগতদের এনে অশান্তি পাকাচ্ছে।” বলাইবাহুল্য, নওশাদের নিশানায় ছিলেন তৃণমূল নেতা আরাবুল হোসেন। কিন্তু তাঁর সেই অভিযোগ মানতে নারাজ ছিলেন শওকত।




