খবর লাইভ : নেপালের নতুন সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী রবি লামিচানে। একই সঙ্গে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে। ৪৮ বছর বয়সে দেশটির সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। নাগরিকত্ব আইন ভঙ্গ করায় গতকাল শুক্রবার তাঁকে এসব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপালের সর্বোচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, দ্বৈত নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়িয়ে পদ খুইয়েছেন রবি লামিচানে। গত ২৬ ডিসেম্বর নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। এর ঠিক মাসখানেকের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে এমন রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।রবি লামিচানে নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। গত বছরের জুনে রাজনৈতিক এই দল গঠন করা হয়। এবারের নির্বাচনে দলটি ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে। গত ডিসেম্বরে যখন রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে নেপালে জোট সরকার গঠন করা হয়, তাতে যোগ দেয় দলটি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন দেশটির বর্ষীয়ান রাজনীতিক পুষ্পকমল দহল। উপপ্রধানমন্ত্রী পদে বসেন রবি লামিচানে।
লামিছানে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কর্মসূত্রে আমেরিকায় ছিলেন। ওই বছর তিনি নেপালে ফিরে আসেন। ২০১৫ সালে তিনি নেপালের পাসপোর্ট পান। তাঁর নাগকিরত্ব অবৈধ কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি আগে জানিয়েছিলেন যে, সবই বিরোধীদের অপপ্রচার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই প্রসঙ্গে জানিয়ে দেয়, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাননি দেশের বিদায়ী উপপ্রধানমন্ত্রী। লামিছানের দল অবশ্য বলছে, খুব শীঘ্রই নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়ে আবার নেপালি রাজনীতির মূলস্রোতে ফিরে আসবেন তিনি।
সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগে নেপালের জনপ্রিয় টিভি সঞ্চালক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন লামিছানে। গত নির্বাচনে তাঁর দল আরএসপি ২০টি আসন পেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়।
গত নভেম্বরে নেপালে সাধারণ নির্বাচন চলাকালীন এক দল আইনজীবী শীর্ষ আদালতের কাছে অভিযোগ করেন যে, লামিছানের নাগরিকত্ব বৈধ নয়। বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য সাংগঠনিক বেঞ্চ তৈরি করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি হরেকৃষ্ণ কারকির নেতৃত্বাধীন সেই বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, লামিছানের নাগরিকত্ব বৈধ নয়। তাই নির্বাচনে তাঁর জয় অবৈধ। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায়, দল এবং সরকারের যাবতীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিতে হবে লামিছানেকে।




