খবর লাইভ: দলের তারকা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে এবার কড়া বার্তা সর্বভারতীয় বিজেপির সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের। খড়গপুর সদরের দলীয় বিধায়ককে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের দল শৃঙ্খলা পরায়ণ দল। তাছাড়া পার্টির হিরণকে নিয়ে তেমন কোনও মাথাব্যথা নেই। ওনাকে বিজেপিতে থাকতে হলে নিয়ম নীতি ও দলের অনুশাসন মেনে চলতে হবে”। আজ, শনিবার দুর্গাপুরের চিত্রালয় ময়দান সংলগ্ন রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এমন মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। এই মুহূর্তে দুর্গাপুরে রাজ্য বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠক চলছে। যেখানে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতা ও পর্যবেক্ষকরাও রয়েছেন। গতকালও এই বৈঠক ছিল, কিন্তু আমন্ত্রিত থাকলেও সেখানে যাননি হিরণ।
সম্প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে হিরণ বসে আছেন, এমন একটি ছবি ভাইরাল হতেই তারকা বিধায়কের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিজেপির অন্দরেই। হিরণের দলবদল নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের মুখপত্র “জাগো বাংলা”তেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন বেরিয়েছে। এরপরই দিলীপ ঘোষের কড়া বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, ভাইরাল হওয়া সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের সোফায় বিজেপির তারকা বিধায়ক অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পাশেই বসে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল কো-অর্ডিনেটর অজিত মাইতি। আর হিরণ সেই জেলারই বিজেপি বিধায়ক।
একাধিক অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, ছবিটি চলতি জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখের। সেদিন অজিত মাইতির সঙ্গে এসে নাকি অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে প্রায় ৪০ মিনিট ছিলেন খড়গপুরের বিজেপির সেলিব্রিটি বিধায়ক।
এখানেই শেষ নয়, সূত্রটি আরও জানাচ্ছে অভিষেকের সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠকের পর বিমানবন্দরে হিরণকে পৌঁছেও দেন অজিতবাবু। ছিলেন আরেক বিজেপি বিধায়ক ও বেশ কয়েকজন বিজেপি নেত্রী। আর এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই হিরণের ঘরওপাসির জল্পনা শুরু হয়েছে। অভিষেকের ছোট্ট করে খুলে দেওয়া দরজা দিয়ে হিরণের তৃণমূলের ঘরে প্রবেশ নাকি সময়ের অপেক্ষা মাত্র?
আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি হয়তো বা ঘরওপাসি হতে পারে
হিরণের। ওইদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে অভিষেকের জনসভা। হিরণকে সেই মঞ্চে দেখা যেতে পারে। অভিষেকের হাত ধরে বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন তিনি।




