খবর লাইভ : পুজো পুজো করে অনেকগুলো দিন পেরিয়ে গেল। এবছরের মতো মা এসে চলেও গেলেন , নতুন অবতারে আবার তাঁকে ফিরে পাব কালীপুজোতে সেই আশাতেই দিন গুনছি সকলে। আচ্ছা প্রত্যেক পুজোরই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ কি বলুন তো ? স্বাবলম্বী হয়ে ওঠা, বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো আর মনে প্রাণে ইচ্ছে মতো বাইরের খাবার খাওয়া যা মোটেও অভিভাবকেরা পছন্দ করেন না এই তো ! কিন্তু যাঁরা বড় এবং প্রবীণ হয়েছেন তাঁদের কাছে পুজো মানে নস্ট্যালজিয়ায় ভোগা। প্যান্ডেলের পরিবর্তন থেকে শহরের কলেবর বৃদ্ধি, মানুষের জোয়ার, পোশাকের বিবর্তন থেকে খাদ্যাভাসের বিপুল সংমিশ্রণের ফলশ্রুতিতে স্বাদকোরকগুলোর নমনীয়তায় তাঁরা কিন্তু না-খুশ , তবে তাতে কি এসে যায় ! এই পরিস্থিতি তো তৈরী হতোই । বাঙালির বিশ্বায়নের ফলে যা একটু দ্রুত হল ব্যস ; নইলে সময় ঘূর্ণায়মান, কালচক্রের আবর্তনে আপনাকে দোল খেতেই হবে। যাই হোক, এবছরের দুর্গাপুজো কিন্তু নানান কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রথম কারণ– কলকাতার দুর্গাপুজো হেরিটেজ তকমা পাওয়ায় সারা বিশ্বের বাঙালির কলার উঁচু হল , দ্বিতীয় কারণ — যাঁর গবেষণায় এই সম্মান প্রাপ্তি তিনি শুধুই ইতিহাসবিদ বা গবেষক নন, মানবিক ও আত্মিক ভাবে বাঙালি, তাই তাঁর গবেষণায় আমরা উৎফুল্ল, তৃতীয় কারণ — এই প্রাপ্তিতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও পরিকল্পনা মতো পুজোর একমাস আগে থেকেই উদযাপন শুরু হয়েছিল জেলায় জেলায়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহামিলন মেলায় প্রাক্ পুজোর ছোঁয়াচ থেকে বাঁচতে পারেননি আট থেকে আশি। চতুর্থ কারণ — এই শহরে প্রথমবার বিসর্জনের শোভাযাত্রার পরেও কার্নিভালের শোভাযাত্রায় উৎসব মুখরিত হয়ে উঠল রাজপথ, বিশৃঙ্খলাতেও ভরল যদিও যাইহোক। এবারে এই উপলক্ষ্যে পুজো উদ্যোক্তারা তো অগাস্ট থেকে প্যান্ডেল বাঁধার কাজ শুরু করেছেন , খুটখাট দুমদাম কাজ চলছেই , গেল। এবার পুজো শেষ, বিসর্জন, কার্নিভাল ও শেষ কিন্তু প্যান্ডেলের কাপড় খুলেছে মাত্র ১৫ শতাংশ। বহু পুজো উদ্যোক্তারা ক্লাবঘরের সামনে যদি কোন মাঠ পান তাহলে তো সোনায় সোহাগা, চলছে- চলবে পদ্ধতিতে তারা কাজ করেন, মাঠ জুড়ে প্যান্ডেল ও মেলা বসে , বিভিন্ন খাবারের ভুক্তাবশেষ ও প্লাস্টিক হাওয়ায় দোল খেয়ে প্র্যাকটিসরত খেলোয়াড় ও প্রাতঃভ্রমণকারীদের নাকে -মুখে আদর করে যায়। সারা মাঠ জুড়ে ছোটবড় গর্ত , অসাবধান হলে পা ভাঙবে নিশ্চিত। এখন প্রশ্ন হলো এগুলো দেখার দায় কার? ক্লাব কর্তৃপক্ষ তো পুজো আর মেলা করেই লোককে সম্মোহিত করে রেখেছে, তাহলে দায় কর্পোরেশনের ! পুজো মরসুমে কর্মীর সংখ্যা কম কিভাবে হবে তবুও চেষ্টা করা হচ্ছে এটা কর্পোরেশনের সাফাই। তাহলে দায় কি সাধারণ মানুষের! আমরা যদি একটু সচেতন হতাম তাহলে জেলায় জেলায় এই পরিস্থিতি প্রতিবছরের মতোই এবছরও চোখে পড়তো না। করোনা আমাদের কিভাবে পর্যুদস্ত করেছিল এবং এখনও ছোবল দিচ্ছে তা নিশ্চয়ই আমরা ভুলে যাইনি, ডেঙ্গি এখনও গলার ফাঁসের মতো আটকে আছে ; এমতাবস্থায় আমরা যদি সতর্ক না হই তাহলে কোন প্রশাসনই বাঁচাতে পারবেনা । প্রত্যেকবারের মতো এবারেও মন্ডপে , মাঠের ধারে, খাবারের অস্থায়ী দোকানে ডাস্টবিন ছিল, তা সত্ত্বেও খাবারের প্লেট, আইসক্রিম -চিপসের প্যাকেট, জল ও নরম পানীয়ের বোতলগুলো রাস্তায় আছাড় খেয়ে পড়ে আছে এ দৃশ্য সকলের দেখা। সকলেই মুখে বলছেন কি নোংরা দেখেছ কেউ পরিস্কার করেনা , অথচ পরক্ষণেই নিজের খাবারের প্লেটটাও মাঠের ওপর ফেলে শিশুর সারল্যে চলে যান। আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মদের কি শেখাচ্ছি তাহলে একবারও ভেবে দেখছেন কি? সময় কি এখনো আসেনি আমাদের ভাবার তাহলে কিন্তু ভগবানও বলবেন এবার তোরা গোল্লায় যা। প্যান্ডেল খুলছে, তীক্ষ্ণ পেরেক মাটিতে পড়ছে, হাঁটতে আসা লোকজনের জুতো ভেদ করে পায়ে ফুটতে পারে। রাস্তার তোরণ খোলার পর পেরেকের খোঁচায় বাইক বা অন্যান্য বাহনের টায়ার ও সময় পাংচার। খালি পায়ে যাতায়াত করা নিম্নবিত্ত শিশুদের পায়ে প্যান্ডেল অবশেষ লেগে বিচ্ছিরি রক্তারক্তি হয়ে যেতে পারে , অনেকেই মাঠে খালিপায়ে হাঁটেন, অসুস্থ ও বয়স্ক লোকদের পায়ে ফুটলে ভোগান্তি তাদেরই। কোন ক্লাব বা সরকার তার দায় নেবেনা। তাহলে কি করা উচিৎ? উচিৎ হল যদি আপনার চোখের সামনে এই কাজগুলো হয় তার কমপ্লেন করা উচিত কাউন্সিলের কাছে। প্যান্ডেল খোলার সময় পেরেক গুছিয়ে তুলে ডাস্টবিনে শক্ত করে মুড়িয়ে ফেলতে হবে, যাতে প্রাণীরা সুরক্ষিত থাকে। এই সময়ে কোথাও খালি পায়ে হাঁটবেন না। ডাস্টবিনের বাঈরে কোথাও নোংরা ফেলবেন না, কেউ ফেললে তাকে সতর্ক করে দিন। এরপর আসছে কালীপুজো, শব্দবাজী নিষিদ্ধ হলেও অন্যান্য বাজী পুড়িয়ে পরিবেশের তো বারোটা বেজেই যায় তারপর ঐ জ্বলন্ত বাজী গুলোকে রাস্তার ওপর ছুঁড়ে ফেলাটা মানুষ নাগরিক অধিকার মনে করেন, এতেও প্রচুর দুর্ঘটনা ঘটে। চরকি, তুবড়ি, লঙ্কাবাজী, চকলেট বোমের খোলে পরেরদিন রাস্তা, নালা নর্দমা এমনকি আপনার বাড়িও ভর্তি। এর দায়ও কি তাহলে সরকারের ওপর বর্তায় ? ভাবুন। অন্য রাজ্য, অন্য দেশের পরিস্কার – পরিচ্ছন্নতা দেখে হা-হুতাশ করা আত্মঘাতী জাতি না হয়ে আমরাও হাত মেলাই না প্রশাসনের সঙ্গে। না না এঁটো প্লেট বা বোতল কুড়োতে হবেনা, নিজের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় যদি সবাই ফেলে তাহলেই কেউ দায়ী হয়না।




