খবর লাইভ : করোনার দাপট অনেকটা কমে গিয়েছে। আর এরই মধ্যে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ডেঙ্গু। প্রত্যেক বর্ষার মরশুমেই রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অন্যতম একটি মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এবারও সেই একই পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে কলকাতা সহ একাধিক রাজ্যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের কপালেও। দুশ্চিন্তা ক্রমেই আরও বাড়ছে। এহেন অবস্থায় রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি যাতে নাগালের বাইরে না বেরিয়ে যায়, তার জন্য আগেভাগে সতর্ক রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। ডেঙ্গু পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের সব ক’টি পুরসভা ও পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী এবং আধিকারিকদের পুজোর ছুটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
আরও পড়ুনঃ রোহিতের ভেলকি! নাগপুরে জিতে সিরিজে সমতা ফেরাল ভারত
পুজোর সময় স্বাস্থ্য দফতরের চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে ‘রোস্টার ডিউটি’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। রাজ্য সরকারের পুজোর ছুটি শুরু হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে, চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময় কালে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তাঁদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত বিষয়ে একটি নির্দেশিকাও জারি করেছে স্বাস্থ্য ভবন। যেখানে মোবাইল নম্বর দিয়ে কোন চিকিৎসক কোন দিন দায়িত্বে থাকছেন তারও উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি দিন দুই থেকে পাঁচ জন করে চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে ওই নির্দেশিকায় ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের কথা উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু উৎসবের মরশুমে স্বাস্থ্যভবনের এ হেন সক্রিয়তাকে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্তের কারণ হিসাবেই দেখছে স্বাস্থ্য ভবনের একাংশ।
নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজ্যে ডেঙ্গু বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। প্রত্যেকটি জেলার জেলাশাসকের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেকটি পুরসভা এলাকায় কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করে প্ল্যানিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। পুজোর আগে ও পরে এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। জল জমতে পারে, এরকম জায়গাগুলি জরুরি ভিত্তিতে পরিষ্কার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলিকে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত পুর কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হচ্ছে। রাজ্যের সব কটি পুরসভায় ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুর কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ডেঙ্গু পরীক্ষা যারা করাচ্ছেন তাদের ডেঙ্গু ধরা পড়লেও সরকারের কাছে সমস্ত তথ্য থাকছে না। তাই সেইসব তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুর কর্মীদের। সবমিলিয়ে এবারের পুজোয় জনপরিষেবা দেবার কারণেই ছুটি বাতিল হল স্বাস্থ্য ও পুর কর্মীদের।




