খবর লাইভ : ‘যেখানে আটকাবে, সেখানেই বসে পড়ব’, নবান্ন অভিযানের সকালে এমনই হুঙ্কার দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। দেখা গেল অন্য ছবি দুপুর তখন প্রায় আড়াইটে, সাঁতরাগাছিতে তখনও চলছে বিজেপি পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ। অন্যদিকে হাওড়া ময়দান থেকে মিছিল নিয়ে এগোতে গিয়ে আটকে গিয়েছেন রাজ্য় সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকে নিয়ে বসে পড়েছেন রাস্তায়। লালবাজারে আটক শুভেন্দু অধিকারী, লকেট চট্টোপাধ্যায়দের মুক্ত করতে ঘোষণা ছাড়াই বিজেপির চতুর্থ মিছিল।
আরও পড়ুনঃ পুলিশকে ইটবৃষ্টি, গাড়িতে আগুন; বিজেপিকে রুখতে জলকামান-লাঠি ! রণক্ষেত্র সাঁতরাগাছি
এমন সময়ে মিছিল নিয়ে হাওড়া ব্রিজের কাছে বাধা পেয়ে দিলীপ ঘোষ ঘোষণা করে দেন, ‘‘নবান্ন অভিযান শেষ।’’ আর এ নিয়েই দিলীপ বনাম সুকান্ত ভিন্নমত প্রকাশ্যে এসে পড়ল। যে তিন নেতাকে অভিযানের ‘মুখ’ করে আজ নবান্ন অভিযানে রাজ্যে ঝড় তোলার বার্তা দিয়ে চলেছিল গেরুয়া শিবির তাঁদের মধ্যে সমন্বয় ও সহমতের অভাব বেশ স্পষ্ট হয়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত বিশ্বাস দিলীপের ঘোষণা শোনার পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আলাদা আলাদা মিছিল। আলাদা আলাদা আন্দোলন। দিলীপ ঘোষ নিজের মিছিল শেষ ঘোষণা করতে পারেন। কিন্তু আমার মিছিল শেষ নয়। নবান্ন অভিযান কর্মসূচি চলছে। পুলিশ যতক্ষণ না আমায় গ্রেফতার করে ততক্ষণ রাস্তাতেই বসে থাকব।’’ এর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে সাড়ে তিনটে নাগাদ সুকান্তকে আটক করে পুলিশ।কে কাকে টেক্কা দেবে? কে কাড়বে নজর? নবান্ন অভিযান ঘিরে বঙ্গ বিজেপির অন্দরেই ছিল এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। শুভেন্দু অধিকারী-দিলীপ ঘোষ নাকি সুকান্ত মজুমদার, কে টেক্কা দেবেন কাকে? মঙ্গলবার সকাল থেকেই সেই লড়াই ছিল। কিন্তু নবান্ন অভিযানে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেও শেষপর্যন্ত নজর কাড়তে ব্যর্থ শুভেন্দু-দিলীপ-সুকান্তরা।
শেষবেলায় ম্যাচের রাশ হাতে নেয় বিজেপির সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা। ওপেনাররা ব্যর্থ হলেও টেল এন্ডাররা টেনে নেয় ম্যাচ। সাঁতরাগাছি চত্বরের দখল নিলেন বিজেপি সমর্থকরা। নবান্ন পৌঁছতে না পারলেও সাঁতরাগাছি-হাওড়া ময়দান-এমজি রোড চত্বর দাপিয়ে বেড়াল গেরুয়া বাহিনী। তাঁদের সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশ আনতে বাধ্য হয় কলকাতা পুলিশ।




