খবর লাইভ : উত্তরবঙ্গ সফরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ চা সম্মেলনে যোগ দিতে আসেন তিনি৷ সেখানে আগত মানুষদের দেখে অভিভূত হন তিনি৷ অভিষেক বলেছেন যে ‘‘রবিবারের বেলায় গরম বাড়ছে। একটা ছুটির দিনেও আপনারাও সবাই এসেছেন৷ আমাদের সাথে মেলবন্ধনের সুযোগ করে দিয়েছেন৷ আমি কথা দিতে পারি তৃণমূল কংগ্রেস ও ট্রেড ইউনিয়ন চা-শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে সোচ্চার হব।’’
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দু সম্পর্কে খোঁজ সিআইডির
তিনি আরও বলেন , ‘‘ আমি রাস্তায় আসতে আসতে লোকের সঙ্গে কথা বলেছি। সম্মেলনে আপনারা কথা বলেছেন৷ পিএফ, জলের সমস্যা, দৈনিক হাজিরা, বাড়ি নিয়ে আপনারা বলেছেন। আজ ৬ জেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক এই সভার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছেন।’’
আলিপুরদুয়ারের একাধিক জায়গায় বড় পর্দায় এই সভা দেখার ব্যবস্থা ছিল৷ অভিষেক আশ্বাস দেন চা শ্রমিকদের দাবি আসলে তাঁদেরই দাবি৷ এই দাবিদাওয়া নিয়ে যাওয়া হবে সঠিক জায়গায় দরবার করতে৷
অভিষেক জানিয়েছেন, ‘‘ বাম আমলে হাজিরা ছিল ৬৭ টাকা। এখন হাজিরা হয়েছে ২৩২ টাকা। পিএফ পাচ্ছেন কিনা এটা নিয়ে আপনারা সমস্যার কথা জানিয়েছেন? আজকে রাজনৈতিক সমাবেশ নয়৷ সামনে বড় কোন ভোট নেই। ভোটের সময় বহিরাগতরা আসে। আর ভোটের পরে পরিযায়ীরা আসে না, দেখা যায় না। আমার উত্তরবঙ্গ নিয়ে আপত্তি নেই। একটাই বঙ্গ পশ্চিমবঙ্গ। বাম-বিজেপির গায়ে জ্বালা ধরেছে৷’’
তিনি নিজের উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের উত্তরও দেন এদিনের সভা থেকে৷ তিনি বলেছেন, ‘‘ আমি দু’মাসে আসব বলেছিলাম, আসিনা কেন? আমি দু’মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এলাম। এই সমাবেশ তাই রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। এটা আমার কথা রাখার সমাবেশ।’’
‘‘এই সমাবেশ তাঁদের জন্য যাঁরা তীর্থের কাকের মতো চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার করবে। ২০১৬,২০১৯,২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন। বীরপাড়া সহ সাত চা-বাগান অধিগ্রহণ করে খুলে দেওয়ার কথা বলেছিল। বলেছিলেন মোদী, বাস্তবায়িত করলেন দিদি। এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভোট দিয়েছেন আপনারা। বিজেপি মিথ্যাবাদীর দল। এরা আপনাদের ভালোবাসায় নিজেদের স্বার্থের কাজ করে।’’
‘‘পিএফ, গ্র্যাচয়ুটি রাজ্যের নয়, কেন্দ্রের আওতায় পড়ে৷ শ্রম দফতর ৩ মাসের মধ্যে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আইডি কার্ড পৌঁছে যাবে। চা-বাগানে এই নিয়ে গেট মিটিং, লাইন মিটিং হবে৷ মালিক নয়, শ্রমিকের স্বার্থে কাজ হবে।’’
‘‘মোদীজীর সরকারের কাজ পিএফ নিয়ে। জয়ন্ত রায়, নিশীথ প্রামাণিক, জন বারলাকে বলছি আমি মিথ্যা বললে আমার বিরুদ্ধে মামলা কর, আমাকে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা কর।’’
অভিষেক আরও বলেন, ‘‘ পিএফের টাকার জন্য আন্দোলন করতে হবে। এই টাকা আপনাদের প্রাপ্য। আগামীকাল থেকে এই ইস্যু নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। তিন মাসের সময় দিয়ে নামতে হবে। জেনে বুঝে বদমাইশি করা যাবে না মালিকদের৷ যে মালিকরা দেবে না তাদের মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করবেন। ৩ মাসের মধ্যে পে-স্লিপ দিতে হবে।’’
পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘চা বাগানের বাচ্চাদের জন্য সুবিধা দিতে হবে। আপনাদের আচ্ছে দিন আসেনি। জন বারলার এসেছে। দেখেছে ওনার ঘর৷ নিশীথ প্রামাণিকের বাড়ি দেখেছেন। মার্বেল প্যালেস বানিয়েছে। এটা আপনাদের টাকায় করা।’’




