Special News Special Reports State

নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য, বিজেপির সাংগঠনিক বড় দায়িত্ব থেকে সরলেন অনুপম

0
(0)

খবর লাইভ :বিহারের সহ-পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অনুপম হাজরাকে। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা বিজেপির জাতীয় সম্পাদক পদে থাকা অনুপম হাজরা এত দিন বিহারের সহ-পর্যবেক্ষক ছিলেন। তাঁকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। বঙ্গ বিজেপিকে বার বার অস্বস্তি ফেলার কারণেই অনুপমের বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই দলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই অনুপমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।

দলের মধ্যেই বিভীষণ থাকার বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন অনুপম হাজরা। তবে শুধু তাই নয়, গরু পাচার মামলায় ইতিমধ্যেই সিবিআই- এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু এই ইস্যু কাজে না লাগাতে পারায় নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই একের পর এক অভিযোগের বোমা ফাটিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা।
ফেসবুক লাইভ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তোলপাড় পড়ে যায় বিজেপি শিবিরে। বীরভূমে জমি তৈরি। তাও অনুব্রত ইস্যুতে কেন কোনও আন্দোলন নয়? এই প্রশ্ন তুলে বিজেপির বীরভূম জেলা নেতৃত্বদের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক হতে দেখা গেছে অনুপম হাজরাকে। বীরভূম কিম্বা বোলপুর সাংগঠনিক জেলায় যাঁরা পদে রয়েছেন তাঁদের মধ্যে অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পরও উৎসাহ নেই। যা নিয়ে কয়েকদিন আগে ক্ষোভ উগড়ে দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম।
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ” অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে উৎসবের চেহারা। অথচ বীরভূমের বিজেপি নেতাদের একাংশ চুপ কেন? ” প্রশ্ন তুলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধেও একহাত নেন অনুপম হাজরা। কোনও রাখঢাক না রেখে, একেবারে সরাসরি দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। সুকান্তর ‘ব্যক্তিত্ব নেই’, এমনকি তিনি দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীর কথায় চলেন বলেও সংবাদ মাধ্যমে মন্তব্য করেন তিনি।
দলের রাজ্য সংগঠনের নেতাদের সমালোচনার পাশাপাশি সম্প্রতি দলের ভবিষ্যদ্বাণীও করেন অনুপম। তাঁর সেই ভবিষ্যদ্বাণী বিজেপির জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। অনুপম বলেছিলেন, বর্তমানে দলীয় সংগঠন যেভাবে চলছে, তাতে বিধানসভায় ২০০ আসন পাওয়ার স্লোগান ভুলে গিয়ে সেই ৭৭-এ আটকে থাকতে হবে। অনুপম এও বলেছিলেন, “রাজ্য বিজেপি সভাপতির মধ্যে ব্যক্তিত্ব থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ওনার তা নেই। সভাপতি যদি ‘সংগঠন বাবু’র কথায় ওঠেন-বসেন, তাহলে মুশকিল’।
অনুপমের একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ দলকে অস্বস্তিতে ফেলে। এর পর পরই গতকাল, শুক্রবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নির্দেশে সাংগঠনিক পদে যে ১৫ টি রাজ্যের সাংগঠনিক পদে রদবদল করার বিষয়ে দলের রাষ্ট্রীয় মহাসচিবের স্বাক্ষর করা যে চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে বিহার রাজ্যের তালিকায় নাম নেই অনুপম হাজরার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক মন্তব্য করার কারণেই সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অনুপমকে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *