খবর লাইভ : দৃশ্যের জন্মের আগেই হাজির দর্শক৷ এমন রবিবার আগে আসেনি৷ এমন ধ্বংসও আগে দেখেনি ওরা৷ ধ্বংস তো হয় আচমকা, অবলীলায়৷ সব কিছু বুঝে ওঠার আগেই৷ কিন্ত এমন নোটিস দিয়ে ধ্বংস, তাও আবার এক গগণচুম্বী অট্টালিকা৷ আকাশ ছুঁয়েছিল যে বাড়ি তা ধুলো হয়ে যাবে ৯ সেকেন্ডে? ভাবতেই পারছে না ওরা৷ প্রায় ১০০ মিটার লম্বা এই টাওয়ারগুলি রবিবার দুপুর ২.৩০ টেয় ভেঙে ফেলা হবে। সে দৃশ্যের জন্মের আগেই হাজির দর্শকেরা৷
ওরা ছোট৷ যে বয়সে সবই লাগে অবাক করা৷ আর এ তো সত্যিকারের অবাক৷ ওদের একজন আরেকজনকে বুঝিয়ে দিচ্ছে সবটা৷ নিরাপদ দূরত্বে থেকে যাতে এই ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করতে পারে সেই জায়গাও বেছে নিয়েছে নিজেরাই৷ শোভাযাত্রা দেখার আগে যেমন জায়গা নির্বাচন হয় এ যেন তেমনই৷
পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। সংবাদমাধ্যম, ভিড়। অ্যাম্বুল্যান্স- এমন দৃশ্য ওরা আগে টিভির পর্দাতেই দেখেছে৷ শিশুদের মধ্যে উত্তেজনা স্পষ্ট চোখে পড়েছে৷ শনিবার মধ্যরাতে বাবার কোলে করে এসেছিল রিয়া, ঘুমে চোখ প্রায় ঢুলে এলেও তাঁকে শেষবার এই টুইন টাওয়ার দেখাতে নিয়ে এসেছে বাবা। ৬ বছর বয়সী রিয়ার কথায়, “আমাকে বলেছে এখানে কাল দুপুরে বিস্ফোরণ ঘটবে।” সঙ্গে এসেছেন রিয়ার মা’ও। মোবাইল ফোনে টুইন টাওয়ারের শেষ ছবি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন তিনি। ১১০ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা হিলাল আহমেদও তাঁর পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জানান, এই টাওয়ার ভেঙে ফেলার ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র অনুভূতি রয়েছে তাঁর। “খুব খুশিও হচ্ছি না আবার খুব কষ্টও হচ্ছে এমনও না,” বলেন হিলাল।
“আশপাশের বিল্ডিংগুলির জন্য বিষয়টি বেশ ভয়ের। এই টুইন টাওয়ার বিল্ডিংয়ের এটাই শেষ দিন, সেই জন্যই আমরা সবাই এখানে এসেছি। এটি নির্মাতাদের জন্যও একটি বার্তা যে অন্যায় হলে শাস্তি হবেই। বার্তাটি প্রয়োজন,”বলেন হিলাল আহমেদ। নয়ডার বাইরের মানুষও হাজর হয়েছিলেন গভীর রাতে।




