খবর লাইভ : ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর দেশটির বেসামরিক মানুষদের ওপর চালানো হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ভাষণ দেন জেলেনস্কি। এ সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধাপরাধের জন্য রাশিয়াকে জবাবদিহি করতে হবে।
নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় জেলেনস্কি একটি ছোট ভিডিও দেখান। ভিডিওতে ইউক্রেনের বুচা, ইরপিন, মারিউপোলসহ কয়েকটি শহরে রুশ সেনাদের ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ উপস্থাপন করেন তিনি। ওই ভিডিওতে রাশিয়ার হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ভবন এবং রক্তাক্ত, দগ্ধ ও বিকৃত হয়ে যাওয়া বেসামরিক মানুষদের মরদেহের ছবি দেখানো হয়। জেলেনস্কি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে হাজারো বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে সফল হয়নি বলেও অভিযোগ করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে লড়ছি, যার নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। দেশটি (রাশিয়া) ইউক্রেনকে কৌশলে দাস বানিয়ে রাখতে চাইছে।
তবে জেলেনস্কির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া ওই বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ইউক্রেনে রুশ সেনারা বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের বুচা শহরটি যখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল তখন সেখানকার একজন বেসামরিক ব্যক্তিও সহিংসতার শিকার হননি।
এর আগেও জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রুশ বাহিনী তাদের ‘যুদ্ধাপরাধের চিহ্ন’ লুকানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের ঘটনার জন্য পুতিনের বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।




