District Special News Special Reports

পুলিশ ও প্রশাসনের মদতেই বেআইনি মাটি খাদান চলার অভিযোগ ধনপোঁতায়, তদন্ত শুরু নবান্নের

0
(0)

খবর লাইভ : অর্থের বিনিময়ে বেআইনি কাজকে সমর্থন করার অভিযোগ বারেবারে পুলিশ ও প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে উঠেছে। সেই অভিযোগের মান্যতা পেয়েছে কয়লা কাণ্ডে বাঁকুড়া থানার আইসি সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হওয়ায়। বগটুই গণহত্যা কাণ্ডের পর তো বেআইনি বালি ও পাথর পাচারে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। রামপুরহাট কাণ্ডের পর তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেআইনি কাজ বন্ধ করতে আলাদা টিম তৈরিরও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। তবুও হুঁশ ফেরেনি পুলিশ ও প্রশাসনের। তাই তো বেআইনিভাবে মাটি তুলে অন্যত্র পাচার করা হলেও সেই বেআইনি কাজ রুখতে কোনও হেলদোল নেই পুলিশ কিংবা ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব দফতরের। যার ফলস্বরূপ হুগলির জাঙ্গিপাড়া থানার ফুরফুরা অঞ্চলের লোকজন জাঙ্গিপাড়া থানা এবং ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব দফতরের অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সারা রাজ্যের মতো হুগলি জেলাতেও বেআইনিভাবে মাটি কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হুগলির সিঙ্গুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী বেচারাম মান্না ও তাঁর স্ত্রী তথা হরিপালের তৃণমূল বিধায়ক করবী মান্না বেআইনি মাটি কাটা বন্ধে বিশেষ তৎপর হয়েছেন। মাটি মাফিয়াদের কাছে ত্রাস হয়ে উঠেছেন মান্না দম্পতি। একইভাবে অন্য থানাগুলোতেও বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখনও রমরমিয়ে এই বেআইনি কাজ চলছে জাঙ্গিপাড়ায়। শীর্ষ মহলের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রমরমিয়ে মাটি কাটার কাজ চলছে ফুরফুরার ধনপোঁতায়। ধনপোঁতায় রাস্তার পাশেই প্রায় ৪৫ ফুট গভীর করে বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ চললে পুলিশ এবং স্থানীয় ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব দফতর জেনেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীদের দাবি। যেকোনও সময় রাস্তায় ধ্বস নামলে তার দায় কি আদৌ প্রশাসন নেবে?

আরও পড়ুন- Mamata Bandopadhyay: বগটুইয়ের তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি , দার্জিলিঙে তোপ মমতার

তৃণমূলের একাংশের দাবি, স্থানীয় বিধায়ক তথা হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি স্নেহাশীষ চক্রবর্তীকে বদনাম করতেই পুলিশ ও প্রশাসন এই ধরনের কাজ বন্ধ করতে অনীহা দেখাচ্ছে। প্রশাসন নীরব থাকায় এলাকার লোকজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।
তাঁদের দাবির সঙ্গে অনেকটাই মিল পাওয়া গিয়েছে। কারণ জাঙ্গিপাড়ার ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব আধিকারিক সুব্রত সরকার আগে বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেয়নি। বেআইনি কাজ বন্ধ করতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ যদিও জাঙ্গিপাড়া থানার ওসি সমরেন্দ্র পাল বলেন, ‘ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব আধিকারিক আমাদের কাছে অভিযোগ করলে তবেই ব্যবস্থা নেব। এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি’ পুলিশ ও প্রশাসনের এই মনোভাবে ক্রমেই এলাকার লোকজনের ক্ষোভ বাড়ছে। নবান্নের এক কর্তা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বারবার বেআইনি কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। তারপরও যদি কেউ নির্দেশ উপেক্ষা করেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব‌। গত বছরও সুব্রত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছিল। এবার তদন্ত শুরু হয়েছে।’
এলাকার লোকজনের দাবি, প্রশাসন মোটা টাকার বিনিময়ে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে নবান্ন থেকে বিশেষ টিম ওই বেআইনি মাটি খাদানে হানা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেক্ষেত্রে বেশ কিছু সরকারি অফিসারের ওপর কোপ পড়তে পারে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *