
খবর লাইভ : তিনি নাকি প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রয়াত তৃণমূল নেতা আকবর আলি খন্দকারের ভাইপো। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন লোককে এই পরিচয় দিয়েই চলছিলেন। আর বহু মানুষ এই ফাঁদেই পা দিয়ে চলেছিলেন। তবে তিনি যে বাস্তবে আকবর আলি খন্দকারের নিজের ভাইপো নন তা স্বয়ং স্বীকার করে নিয়েছেন হুগলি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ওই প্রাক্তন সাংসদের স্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক স্বাতী খন্দকার।
হুগলি জেলা তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা আকবর আলি খন্দকার আজও সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে রয়েছেন। কিন্তু তাঁরই পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন লোকের মন জয় করা থেকে শুরু করে সবকিছুই চলছিল এতদিন। প্রয়াত তৃণমূল সাংসদের নাম ভাঁড়িয়ে দু’বারের উপপ্রধান হয়েছেন আকবর আলি খন্দকারের গ্রামের বাসিন্দা সাবির আলি খন্দকার। তবে উপপ্রধান হবার পর তাঁর আর্থিক অবস্থা ধূমকেতুর মতো বেড়েই চলেছে। এক সময় পুরনো চুন সুরকির বাড়িতে বসবাস করলেও বর্তমানে প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ করে প্রাসাদোপম নতুন ঝাঁ চকচকে বাড়ি বানিয়েছেন সাবির। রাজনীতি ছাড়া যাঁর অন্য কোনও পেশা নেই সেই তিনিই কীভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হলেন তা দেখে হতবাক জেলা স্তরের একাধিক নেতা। যার ফল অবশ্য গত লোকসভা ভোটে কিংবা ২০২১ বিধানসভা ভোটে পড়েছে। এলাকার লোকজনের দাবি, এক প্রকার জোর জুলুম করে এই এলাকায় সাধারণ মানুষের সমস্ত হক ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরাসরি এলাকার মানুষজন অভিযোগের তির সাবিরের দিকেই ছুঁড়ে দিয়েছেন। এলাকাবাসীদের বক্তব্য, একশো দিনের কাজের টাকার চরম দুর্নীতি করা হচ্ছে হুগলির পুরশুড়ার বালিপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। যে পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সাবির হলেও প্রধানের সমস্ত কাজই তিনিই করেন বলে এলাকার মানুষজনের দাবি। ১০০ দিনের কাজের টাকা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবির ও তাঁর সাগরেদদের বিরুদ্ধে। শুধু ১০০ দিনের কাজেই নয়, আরও বিভিন্ন প্রকল্পে এই পঞ্চায়েতে দুর্নীতি হচ্ছে বলে এলাকার লোকজন দাবি করেছেন। যার ফল অবশ্য সাধারণ মানুষ ভোটের ব্যালটে দিয়েছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই পঞ্চায়েত এলাকা থেকেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সাবির যে বুথ থেকে প্রার্থী হয়ে উপপ্রধান হয়েছেন সেই বুথেও যেমন তৃণমূল পিছিয়ে রয়েছে তেমনই নিজের গ্রামের বুথেও ঘাসফুল বহু ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। আর এর আসল কারণ দুর্নীতি আর দুর্নীতি। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হলেও এখানে সাবির ও তাঁর দলবলের দাপটে অসহায় অবস্থা সাধারণ মানুষের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল কর্মী বলেন, বছর আটেক আগে সাবিরদের বহু পুরনো দিনের ভাঙাচোরা বাড়ি ছিল। তিনি কোনও পেশা বা ব্যবসা সেরকম কিছুই করেন না কিন্তু তারপরেও প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করে পেল্লাই বাড়ি বানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কয়েকদিন আগে তাঁর নিজের বিয়েতে প্রায় তিরিশ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। এতো টাকা কীভাবে এলো দলের তদন্ত করা উচিত। তা হলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।
হুগলি জেলার এক প্রথম সারির নেতা বলেন, সাবিরের চরম দুর্নীতির খেসারত দলকে দিতে হচ্ছে। সেই কারণেই এলাকার সাধারণ মানুষ তৃণমূল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। দিলীপ যাদবের মত ব্যক্তিকে প্রার্থী করলেও হারতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার লোকজন বিভিন্ন জায়গায় সাবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন কিন্তু দল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আজ তার খেসারত দিতে হচ্ছে। সিংহভাগ পঞ্চায়েত সদস্যই সাবিরের বিরুদ্ধে। আকবর আলি খন্দকারের স্ত্রী স্বাতী খন্দকার জানান, সাবির তাঁর স্বামীর নিজের ভাইপো নন। এবিষয়ে অবশ্য সাবিরের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।




