খবর লাইভ : ভুয়ো টিকা কাণ্ডে তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এবার কসবায় যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে অফিস তৈরি করেছিল প্রতারক দেবাঞ্জন দেব, তার মালিককেও গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। এই প্রতারণা সম্পর্কে সবটাই জানতেন অফিস-ঘরের মালিক অশোক কুমার রায়। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই এই ঘটনার যাবতীয় তথ্য চেয়েছে এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের সমান্তরাল তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা পঞ্চাশোর্ধ অশোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কসবায় যে ঘরটিতে অফিস করে বসেছিল দেবাঞ্জন, ওই ঘরটি আসলে ভাড়া দিয়েছিলেন অশোক। শুধু তাই নয়, তিনি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত বলেও অনুমান তদন্তকারীদের। যদিও ভুয়ো টিকাকরণ কেন্দ্রে ধৃতেরও ৫০ জন আত্মীয়-পরিজন টিকা নিয়েছিলেন। অশোককে সপ্তম অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে মূল অভিযুক্ত দেবাঞ্জন, তার খুড়তুতো ভাই কাঞ্চন দেব এবং দেবাঞ্জনের অফিসের ম্যানেজার শান্তনু মান্নাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দেবাঞ্জনের অফিসের আরও তিন কর্মীকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী অফিসাররা।
সূত্রের খবর, দেবাঞ্জন মামলায় রাজ্যের পাশাপাশি কেন্দ্রের নামও জড়িয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভুয়ো চিঠিতে কেন্দ্রের সংস্থার নাম জড়ানোয় বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাই এবার ইডির তরফে তদন্তে নেমে মামলার তদন্ত শুরু করতে চাইছে। ইডি মারফত জানা গিয়েছে, দেবাঞ্জনের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করে ভুয়ো ভ্যাকসিনকাণ্ডে তারা আর্থিক প্রতারণার মামলা রুজু করবে। আর্থিক তছরূপ আইনের আওতায় এফআইআর করে দ্রুত তদন্ত শুরু করতেই কলকাতা পুলিশকে ই-মেল করে ইডি। যদিও রাজ্য সরকার নিজেদের পুলিশের উপরই ভরসা রাখছে। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্রকে দেবাঞ্জনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়।


