District Special News

আইএসের মতোই ভয়ঙ্কর জগৎবল্লভপুরের প্রধান রঞ্জন কুণ্ডু

3
(2)

পীযূষ চক্রবর্তী, সম্পাদক (খবর লাইভ)- আমাদের খবর লাইভের সাইটে কিছু কাজের জন্য গত ৩১ জানুয়ারি একটি নাটকীয় ঘটনার বর্ণনা করতে দেরি হল। ওইদিন হাওড়া-হুগলি সীমানাবর্তী এলাকা থেকে আমার বাইক কেড়ে নিয়ে আমাকে অপহরণ করে পঞ্চায়েত অফিসে নিয়ে গিয়ে খুন করার চেষ্টা করেন জগৎবল্লভপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রঞ্জন কুণ্ডু ও তাঁর দলবল। আমার দোষ? সম্প্রতি বড়গাছিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বেশকিছু সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণের বিরুদ্ধে খবর করা। আর তার জেরে আমাকে হাওড়া-হুগলির সীমানাবর্তী মুণ্ডলিকা বাজারের কাছ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান রঞ্জন কুণ্ডুর লোকজন। জগৎবল্লভপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পঞ্চায়েত অফিসের একটি ঘরে যেখানে ক্যামেরা লাগানো নেই সেখানে আটকে রেখে আমাকে বেদম মারধর করা হয়। কেড়ে নেওয়া হয় আমার মোবাইল ফোন। ভেঙে দেওয়া হয় আমার হেলমেটটি। সাংবাদিক পরিচয়পত্রের কার্ডটিও কেড়ে নেওয়া হয়। আমি কেন খবর করছি এই প্রশ্ন তুলে বেদম মারতে থাকেন রঞ্জন, জগৎবল্লভপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সিপিএমের প্রধান নির্মল ঘোষ, ওই পঞ্চায়েতের সদস্য শেখ মোক্তার আলি, মাটি মাফিয়া মিন্টু এবং আরও একাধিক লোকজন। মাথা, কানের দুপাশে, পিঠে, পেটে, পায়ে, হাতে এমনকি আমার যৌনাঙ্গেও আঘাত করা হয়। হেলমেটটি ভেঙে দেওয়া হয়। গলায় থাকা সোনার চেনটিও ছিনতাই করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে আমাকে জোর করে লিখিয়ে নেওয়া হয় আমি নির্মলের কাছ থেকে নাকি ৪০ হাজার টাকা এবং মোক্তারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম সেই টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে শোধ করবো এবং জগৎবল্লভপুরের কোনও ভুয়ো খবর করবো না। অর্থাৎ সরকারি জায়গা দখল করে জগৎবল্লভপুর হাসপাতালের সামনে যেভাবে বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে যে খবর করেছিলাম সেই খবর করতে বারণ করা হচ্ছে। এই নির্মাণগুলি করার অভিযোগ ওঠে রঞ্জন কুণ্ডু ঘনিষ্ঠ জগৎবল্লভপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে। এবং সম্প্রতি বড়গাছিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে ও ওই পঞ্চায়েতেরই মধ্য সন্তোষপুর এলাকায় একের পর এক জলাভূমি বুজিয়ে প্রমোটিং করার যে খবর করেছি তা যেন আর না করি। ওইদিন আমাকে মারধরের সময় ঘটনাস্থলে পরে উপস্থিত হয়ে গিয়েছিলেন বড়গাছিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শবনম সুলতানার স্বামীও। তিনিও আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। ভেবেছিলাম হয়তো ওইদিনই আমার জীবনের শেষদিন।

পরে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আমার বাইক, মোবাইল ও সাংবাদিক পরিচয়পত্রটি উদ্ধার করে। কিন্তু হেলমেটটি ভেঙে দেওয়া হয়। পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়ে আমাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখে। ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি সেভাবে। জগৎবল্লভপুর থানার ওসি মনোময় চক্রবর্তী রীতিমতো হুমকির সুরে আমার সঙ্গে কথা বলেন। দুপুর আড়াইটে থেকে রাত প্রায় আটটা পর্যন্ত আমাকে থানায় আটকে রাখার পর আমার দাদা ও দিদি গেলে আমাকে ছাড়া হয়। তবে তার আগে আমাকে অ্যারেস্ট মেমোতে সই করিয়ে নেওয়া হয়। আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন ওসি। সেই রেকর্ড আমাদের কাছে আছে।

আমাকে কেন অ্যারেস্ট মেমোতে সই করতে হবে এই প্রশ্ন করলে থানার তরফে জানানো হয়, যেহেতু পুলিশ আমাকে উদ্ধার করেছে তাই ফর্মালিটির জন্য এটা করতে হচ্ছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, জগৎবল্লভপুরের বিধায়কের অনুগামী এই রঞ্জন কুণ্ডু ও তাঁর শাগরেদরা।

জগৎবল্লভপুরের বিধায়ক সীতানাথ ঘোষ রঞ্জন কুণ্ডুদের বিরুদ্ধে কিছু সেভাবে না বললেও হাওড়া সদরের জেলা সভাপতি কল্যাণ ঘোষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী অরূপ রায় সকলেই রঞ্জন কুণ্ডুদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।

সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি সহ সব দলের নেতারাই সাংবাদিক নিগ্রহের নিন্দা করেছেন। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছেন।

এলাকার লোকজন দাবি করেছেন, সরকারের উচিত তদন্ত করে যে বা যাঁরা সরকারি জায়গা দখল করে বেআইনি নির্মাণ করেছেন বা মদত দিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *