খবর লাইভ : সদ্য তৃণমূলে ফেরা বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়ের ‘ম্যাজিক’ কি তবে কাজ করতে শুরু করল? সোমবার অন্তত বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে দলত্যাগী নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দু’ডজনের কাছাকাছি বিধায়কের অনুপস্থিতিই সেই প্রশ্ন তুলে দিল?
কেন দলীয় বিধায়কদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিশেষ বার্তা পাঠানোর পরেও ওই ২৩ বিধায়ক এলেন না তা নিয়ে অবশ্য প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি শুভেন্দু অধিকারী কিংবা বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক মনোজ টিগ্গা। তবে ২৩ বিধায়কের গরহাজির থাকাকে অশনিসঙ্কেত হিসেবেই দেখছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। দলের রাজ্য কমিটির এক সহ সভাপতির কথায়, ‘এদিন যাঁরা দলীয় বৈঠক এড়িয়েছেন তাঁদের কতজন দলে থাকবেন, তা নিয়ে অবশ্যই সংশয় রয়েছে। তৃণমূল থেকে আসা এক নেতাকে বিরোধী নেতা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার মূল্য অবশ্যই চোকাতে হবে দলকে।’
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে নালিশ জানিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের দরবারে দলীয় বিধায়কদের হাজির করার কৌশল নিয়েছিলেন বিজেপি পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু। সূত্রের খবর, মুকুল রায় দল ছাড়লেও দলের বাকি কোনও বিধায়ক তৃণমূলে যাচ্ছেন না, সেই বার্তা দিতেই এদিন রাজভবনে চা-চক্রের আড্ডায় সদলবলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। রাজভবনে যাওয়ার আগে বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকেও বসেছিলেন। আর তাতেই মুখ পোড়ালেন। দলীয় বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছেন ২৩ জন বিধায়ক। তাতেই অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপি নেতৃত্বের। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘আগ বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে মুখ পোড়ালেন বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা। দলের অন্দরের বিভাজন প্রকাশ্যে এনে দিলেন।’
শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফেরার পরে শনিবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সম্ভাব্য দলবদলকারী ২৭ বিজেপি বিধায়কের তালিকা তুলে দিয়েছিলেন মুকুল। সেই তালিকায় থাকা অধিকাংশ বিধায়কই এদিনের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন। তার মধ্যে যেমন উত্তরবঙ্গের বিধায়করা রয়েছেন তেমনই দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকজন বিধায়কও রয়েছেন। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে গরহাজির বিধায়কদের উপরে বিশেষ নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিধানসভা ভবনে বিশেষ বৈঠকের পরে এদিন বিকেল ৪টে নাগাদ চা চক্রে যোগ দিতে রাজভবনে যান বিজেপি বিধায়করা। রাজভবনের বারান্দায় সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতেই বেনজিরভাবে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে আড্ডার আসর বসান প্রাক্তন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। বেশ খানিকক্ষণ কথাবার্তা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের স্বভাব বজায় রেখে তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন বাংলার রাজ্যপাল। কেন তাঁর মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পরবর্তী জনরোষের শিকার হওয়া বিজেপি কর্মীদের দেখতে গেলেন না, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্যপাল। বঙ্গের রাজ্যপালের অভিযোগ, ‘বাংলায় গণতন্ত্র শ্বাস নিতে পারছে না। মানুষ রায় দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন তার কাজ করছে না। বরং প্রশাসনিক কর্তারা আগুন নিয়ে খেলছেন। লাগাতার ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটছে রাজ্যে। লাগাতার হিংসা সত্ত্বেও নীরব রয়েছে প্রশাসন।’
দলত্যাগী মুকুলকে ‘সবক’ শেখাতে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের জন্য ইতিমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছেন বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা। মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য রাজ্যপালকে বিশেষ উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। আর সেই অনুরোধ পেয়েই হুঙ্কার ছুঁড়ে রাজ্যপাল বলেছেন, ‘আমি জানতে পারলাম গত দশ বছরে পশ্চিমবঙ্গে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগই করা হয়নি। আমি আশ্বস্ত করছি, পশ্চিমবঙ্গে ওই আইন পুরোদমে কার্যকর করা হবে। আমি নিশ্চিত করব যাতে কার্যকর হয়। কেউ আইনের নাগালের বাইরে নয়।’
খবর লাইভ : মেঘালয়ের বেআইনি কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ১৮ শ্রমিকের মৃত্যুখবর লাইভ :…
খবর লাইভ : গভীর রাতে ভূকম্পনে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে প্রবল কম্পনে…
খবর লাইভ : রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর। প্রায় এক দশক ধরে চলা…
খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধ উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর কাজের জন্য রাজ্যের…
খবর লাইভ : পরনে ধুতি, মাথায় ইট ভর্তি ডালি নিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে রাস্তা সংস্কারের…
খবর লাইভ : সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির…