খবর লাইভ : মা-মাটি-মানুষের নাম করে ক্ষমতায় এসে এখন অনুপ্রবেশকারীদের হাতে মাটি তুলে দিচ্ছে সরকার। আর ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার স্বপ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে ছানি পড়েছে। শনিবার ব্যারাকপুরের হাইভোল্টেজ কর্মীসভা থেকে এই ভাষাতেই তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুধু আক্রমণই নয়, মঞ্চ থেকে নাম ধরে ধরে ১৪ জন তৃণমূল নেতার তালিকা পড়ে শোনালেন শাহ, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে জেল খেটেছেন।
এদিন জনসভা থেকে অমিত শাহ স্পষ্ট জানান, বাংলায় দুর্নীতির সব সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অনুব্রত মণ্ডল থেকে কুন্তল ঘোষ, তালিকায় অনেকেই আছেন। মমতাজি, সাহস থাকলে আগামী ভোটে এদের টিকিট দেবেন না। টিকিট না দিলেই দেখবেন এরা ভাইপোর নাম বলে দিচ্ছে। শাহের হুঁশিয়ারি, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে প্রত্যেক দুর্নীতিবাজকে বেছে বেছে খুঁজে বের করে জেলে ঢোকানো হবে।
অমিত শাহ তাঁর বক্তব্যে গুনে গুনে ১৪ জন নেতার নাম উল্লেখ করেন। তালিকায় ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জীবনকৃষ্ণ সাহা, মদন মিত্র, পরেশ পাল, মানিক ভট্টাচার্য, অজিত মাইতি, চন্দ্রনাথ সিংহ, কুন্তল ঘোষ, আরাবুল ইসলাম, ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং অনুব্রত মণ্ডল। শাহ বলেন, “তদন্ত শুরু হলে বাকিদেরও ভরে দেব। সিন্ডিকেট আর গুণ্ডাদের হাতে বাংলার টাকা চলে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনও বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন বলে জানান শাহ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্যই আজ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, বিজেপি দেশের ২১টি রাজ্যে সরকার গড়েছে, কিন্তু মোদীজি এবং আমরা সেদিনই হাসব, যেদিন ২২তম রাজ্য হিসেবে বিজেপি বাংলা জয় করবে। সেটাই হবে শহিদদের প্রতি আসল শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এসএসসি, পুরসভা নিয়োগ, গরু পাচার থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজ ও পিএম আবাস যোজনায় হাজার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি হয়েছে বলে দাবি করেন শাহ। তাঁর কটাক্ষ, বাংলার মানুষ ছানির অস্ত্রোপচার করে দেবে, তখন মমতাজির চোখে সব ধরা পড়বে।



