খবর লাইভ : মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার মর্মান্তিকভাবে আজ নিহত হয়েছেন একটি বিমান দুর্ঘটনায়। এদিন সকালে তিনি মুম্বাই থেকে বারামতীর রাজনৈতিক কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন একটি লিয়ারজেট-৪৫ ব্যক্তিগত জেটে।
বিমানটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে ওড়ে এবং ৮টা ৪৩ মিনিটে মাটি ছোঁওয়ার ৩৩ মিনিটের মধ্যে, বারামতীর কাছে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বিমানের মধ্যে থাকা মোট ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এতে অজিত পওয়ার ছাড়াও বিমান ক্রুরা এবং সহকারী রয়েছেন।
মাঝ আকাশে সঙ্কেত কেন বন্ধ হয়ে গেল?
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ও ডেটা অনুযায়ী ওড়ার ২৪ মিনিটের মাথায় বিমানটি এডিএস-বি সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পর সঙ্কেত আবার পাওয়া গেলেও, ৮টা ৪৩ মিনিটে পুরোপুরি নিস্তব্ধ হয়ে যায়, এবং এরপর আর কোনও সঙ্কেত আসেনি। এই সময়েই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সঙ্কেত বন্ধ হওয়ার স্থানটি বারামতী বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ছিল।
শেষ সময়ের পরিস্থিতি
প্রথমবারের অবতরণের চেষ্টা সফল না হওয়ায় বিমান একটি চক্কর কাটে এবং আবার অবতরণ চেষ্টায় নেমে আসে। ওই সময় পাইলট এটিসি-কে জানান যে রানওয়েটি দৃশ্যমান হচ্ছে না, পরে আবার “দেখছি” বলে জানানো হলেও পরেই সঙ্কেত বন্ধ হয়ে যায়। এডিএস-বি ডেটা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানটির উচ্চতা ছিল প্রায় ১০১৬ মিটার এবং গতি ছিল প্রায় ২৩৭ কিমি/ঘণ্টা।
তদন্ত চলছে
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক তদন্ত শুরু করেছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে। প্রাথমিক ভাবে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পাহাড়ি এলাকা এবং আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজে চরম বেগ পেতে হয়। যান্ত্রিক গোলযোগ নাকি আবহাওয়া, ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন যে তিনি বিমানটিকে নামতে দেখেছেন। প্রথমে আগুন ধরে যায় এবং তারপরে তিন থেকে চারটি বিস্ফোরণ হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি পাওয়ারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এক্স-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদি বলেছেন, অজিত পাওয়ার ছিলেন একজন জননেতা, তৃণমূল স্তরের সাথে তাঁর দৃঢ় যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী একজন পরিশ্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সর্বত্র সম্মানিত ছিলেন। প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর বোধগম্যতা এবং দরিদ্র ও নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও উল্লেখযোগ্য ছিল। তাঁর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। তাঁর পরিবার এবং অগণিত ভক্তদের প্রতি সমবেদনা। ওম শান্তি।




