খবর লাইভ : মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় গত শুক্রবার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঝাড়খণ্ডে কর্মরত মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাঁরা অভিযোগ করেন, তিনি খুন হয়েছেন এবং এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সড়ক নম্বর ১২ ও রেললাইন অবরোধ করে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়, যার কারণে এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পুলিশ ও র্যাফের কঠোর হস্তক্ষেপে শুক্রবার পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
শনিবার নতুন করে উত্তেজনা
পরিস্থিতি শুক্রবারের পর শনিবার সকালে ফের উত্তপ্ত হয়। বড়ুয়া মোড়ে কয়েকশো মানুষ জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন এবং ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে এবং বাধা সৃষ্টি কালে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার সানি রাজ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, শুক্রবারের বিক্ষোভ মূলত আবেগের প্রতিক্রিয়া হলেও, শনিবারের অশান্তি “পুর্বপ্রস্তুত” ছিল। তিনি দাবি করেন যে স্টেশনের সিগন্যাল পোষ্ট ভাঙচুর, সরকারি বাসে হামলা সহ অন্যান্য ভাঙচুর পরিকল্পিত ছিল। এজন্যই পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
পুলিশির নজরদারির আওতায় ইতিমধ্যে মূলচক্রী মতিউর রহমানসহ প্রায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা ও সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগ আছে।
সাংবাদিকদের উপর সহিংস আচরণ
উদ্বেগজনকভাবে, বেলডাঙায় প্রতিবাদের সময় কিছু সাংবাদিকের উপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। একাধিক সাংবাদিককে জমিতে ফেলে কিল, লাথি ও ঘুষি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করছে। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রিপোর্টিং করার সময় নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আরও সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে বেলডাঙা এলাকায় কড়া পুলিশি নজরদারি ও র্যাফ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার দিকে। কিন্তু বহল জনসমাগম ও অবরোধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে ট্রেন ও সড়ক চলাচলে এখনও ব্যাঘাত রয়েছে।




