খবর লাইভ : এসআইআর ইস্যুতে তোলপাড় রাজ্য, মমতার হুঁশিয়ারির পরই ‘অ্যাকশনে’ তৃণমূল বিধায়ক, তাণ্ডব চলল বিডিও অফিসে, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল সরকারি আধিকারিকের চেম্বার। এই নিয়ে এবার গর্জে উঠলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে লিখেছেন, এসআইআর শুনানি চলাকালীন মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে মাইক্রো অবজার্ভারদের উপর সংঘটিত নির্লজ্জ হামলায় আমি গভীরভাবে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। এসআইআর প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তারা তাঁদের সাংবিধানিক কর্তব্য পালনকালে দুষ্কৃতীদের দ্বারা নির্মমভাবে আক্রান্ত হন। এই হামলায় দু’জন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ঘটনাস্থলে কোনও পুলিশ, কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুই ছিল না; পুরো দল সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় পড়ে যান।
বিরোধী দলনেতা আরও লেখেন, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে নেমে আসা ‘মহা জঙ্গলরাজ’-এর এক জ্বলন্ত উদাহরণ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যটিকে এমন এক আইনহীন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে, যেখানে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তারাও নিরাপদ নন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও, এই মাইক্রো অবজার্ভারদের কার্যত ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই চরম অনিরাপদ পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রাণ রক্ষা করতে বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে এসআইআর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আর কাজ করতে তাঁরা রাজি নন। এই গণ-প্রত্যাহার রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া পরিস্থিতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং একই সঙ্গে এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর সরাসরি আঘাত। তিনি আরও লিখেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসকগোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে চাইছে, যাতে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে অন্যায় উপায়ে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা যায়। প্রতিটি ধাপে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, মানুষের জীবন বিপন্ন করা হচ্ছে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তিকে নষ্ট করা হচ্ছে। এবার যথেষ্ট হয়েছে।
এবিষয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, আমি ভারতের মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে এই গুরুতর পরিস্থিতিতে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানাচ্ছি। ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনকে যে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োগ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর সম্পূর্ণ তদারকি, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হোক। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে, রাজ্য প্রশাসনের সবরকম বাধা অতিক্রম করে, ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এই নৈরাজ্য থেকে আমাদের গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
উল্লেখ্য, ফারাক্কায় বিডিও অফিসে এসআইআর-এর হিয়ারিং চলাকালীন তীব্র অশান্তি সৃষ্টি হয়। তৃণমূল বিধায়কের নির্দেশে তার অনুগামীরা বিডিওর চেম্বারে ভাঙচুর চালায়। ফারাক্কায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ নিবিড় সংশোধন ক্যাম্প এবং বিডিও অফিসে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এউ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এফআইআর-এ কেন তৃণমূল বিধায়কের নামের উল্লেখ নেই, তাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।




