খবর লাইভ : ক্রমে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে সাইক্লোন দেতোয়া। অবিরাম বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। বহুদিন পর এমন দুর্যোগের মুখে পড়ল দ্বীপরাষ্ট্রটি। দিন এগোতেই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, মিলছে নতুন নতুন ধ্বংসের খবর।
সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত ১৫৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, বাস্তবে সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি হতে পারে। এখনও ৬১ জন নিখোঁজ, আর প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। দেশের বহু এলাকায় এখনও বাড়ছে জলের স্তর।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন। রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য ২০২৫ সালের বাজেট থেকে ১.২ বিলিয়ন টাকা তহবিল ছাড় করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩০ বিলিয়ন টাকা। প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে নতুন সার্কুলার জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সদর দফতরে বিশেষ ইউনিট ও ১০টি জরুরি হটলাইন চালু করা হয়েছে।
এদিকে লাগাতার বৃষ্টিতে থমকে গেছে পরিবহন ব্যবস্থা। রাজধানী কলম্বোর একাধিক প্রধান সড়ক জলমগ্ন। সাউথ এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি অংশে যান চলাচল বন্ধ। দৃশ্যমানতা কম থাকায় তিরুঅনন্তপুরম, কোচিন ও মাত্তালার উদ্দেশ্যে যাওয়া বেশ কিছু ফ্লাইটকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মানবিক সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতও। শুরু হয়েছে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’। শুক্রবার ভারতের পক্ষ থেকে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় দেতোয়ার কারণে যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কাকে ভারত সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
শ্রীলঙ্কার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১২,৩১৩ পরিবার অর্থাৎ ৪৩,৯০০-এরও বেশি মানুষ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেতোয়ার প্রভাবে পরিস্থিতি আরও বেগতিক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।




