International Special News Special Reports

সৌর ঝড়ে কাঁপছে বিশ্বের আকাশ পথ, ৬ হাজার বিমানের সফটওয়্যার আপডেট করতে নামানো হলো আকাশ থেকে

0
(0)

খবর লাইভ : বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক প্রযুক্তিগত সতর্কতা জানিয়েছে বিমান নির্মাতা সংস্থা এয়ারবাস। তীব্র সৌর বিকিরণে ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারের কার্যকারিতায় বিঘ্ন ঘটতে পারে, এমন ঝুঁকি চিহ্নিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার এয়ারবাস বিমানকে সাময়িকভাবে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণে ব্যাপক দেরি ও সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রায় ৬,০০০টি এয়ারবাস এ৩২০ সিরিজের বিমান এই সমস্যায় জর্জরিত, যা ইউরোপীয় নির্মাতার মোট বৈশ্বিক বহরের অর্ধেক। তবে বেশিরভাগ বিমানই দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে আবার উড়ানে ফিরতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের অক্টোবর, যখন জেটব্লু এয়ারক্রাফটের একটি বিমান মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী পথে উড়ন্ত অবস্থায় হঠাৎ উচ্চতা কমিয়ে নিচে নেমে আসে। তৎপর তদন্তে দেখা যায়, সৌর বিকিরণের কারণে বিমানের কম্পিউটারের একটি ডাটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানটি জরুরি অবতরণ করে।

এয়ারবাস জানিয়েছে, সমস্যাটি ৫,১০০টি বিমানে তিন ঘণ্টার মতো সময়ে সহজ সফটওয়্যার আপডেট করেই সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু বাকি ৯০০টি পুরনো বিমানের ক্ষেত্রে অনবোর্ড কম্পিউটার সম্পূর্ণ বদলাতে হবে। প্রতিস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো যাত্রী পরিবহণে ব্যবহার করা যাবে না।

ব্রিটেনের এভিয়েশন রেগুলেটর জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইট বাতিল ও দেরির সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও লন্ডনের হিথ্রো বা গ্যাটউইকে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।  বিভিন্ন এয়ারলাইনের পরিস্থিতি ভিন্ন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের প্রভাব সীমিত। উইজ এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়া দ্রুত আপডেট শুরু করেছে।

ইজি জেট আংশিক ব্যাঘাতের কথা জানালেও বহু বিমানের সফটওয়্যার ইতিমধ্যেই আপডেট করেছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্স ৩৪০টি বিমান ঝুঁকিতে পড়লেও বেশিরভাগ আপডেট এক–দুই দিনের মধ্যে শেষ হবে বলছে। অস্ট্রেলিয়ার জেটস্টার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ফ্লিট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৯০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি জরুরি নির্দেশ জারি করেছে। সমস্যা সমাধানের আগে কোনো বিমানই যাত্রী নিয়ে উড়তে পারবে না। তবে রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য যাত্রীবিহীন ‘ফেরি ফ্লাইট’ করার অনুমতি থাকবে।

কেন ঘটছে এই সমস্যা?
এ৩২০ পরিবারের বিমানগুলো “ফ্লাই-বাই-ওয়্যার” প্রযুক্তির—মানে ককপিটের কন্ট্রোল সরাসরি মেকানিক্যাল নয়, কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত।
উচ্চ উচ্চতায় তীব্র সৌর বিকিরণে বিমানটির উচ্চতা-গণনাকারী সফটওয়্যারটির ডেটা বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই ঝুঁকিটি তৈরি হয়েছে বলে এয়ারবাস জানিয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *