Special News Special Reports State

ধ্বনি পরিমিত, প্রতিধ্বনি বেশি: এরাজ্যে মোদির সভা নিয়ে বিজেপির নতুন রণকৌশল

0
(0)

খবর লাইভ: পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে বিজেপি নতুন রণকৌশল নিয়েছে। জনসভা কম, কিন্তু প্রতিধ্বনি বেশি। কেন্দ্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব বিশেষভাবে সচেতন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা এবং বক্তব্যের আঘাতকে সর্বোচ্চ স্থায়ী প্রভাব বিস্তার হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাই পরিকল্পনায় অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মূল কৌশল- কম সভা, বেশি প্রতিধ্বনি

• বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মোদি প্রায় ১৪–১৫টি সভা করবেন রাজ্যে। ভোট প্রচার শুরু থেকে নির্বাচনের সমাপ্তি পর্যন্ত।
• গত নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মোদির “কার্পেট বম্বিং” কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছিল। একসাথে অনেক সভা, প্রচুর প্রচুর শব্দ। কিন্তু এবার সেই কৌশল থেকে সরতে চাইছে বিজেপি।
• দলের অভ্যন্তরে ধারণা যে, খুব বেশি সভা হলে মোদির প্রভাব নরম হয়ে যেতে পারে। বারবার একই বক্তব্যে তার রাজনৈতিক ও জনপ্রিয়তার মহিমা কমে যেতে পারে।
• তাই এইবার পরিকল্পনা করা হয়েছে: যেখানে মোদি বলবেন, সেই বক্তব্যগুলো বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মাধ্যমে প্রতিধ্বনিত হবে।

রাজনৈতিক এবং প্রচারগত প্রভাব
• বিজেপির উদ্দেশ্য হলো মোদির “চিত্র” এবং “বাণী” হঠাৎ শেষ হয়ে না যাওয়া। বরং দীর্ঘ মেয়াদে তা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক।
• কম সভা মানেই বাজেট এবং লোকসংসাধন নিয়েও লাভজনক সিদ্ধান্ত। বেশি সভা আয়োজনে সময় এবং খরচ বাড়বে, যা কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।
• একুশ শতকে নির্বাচন সাংবাদিকতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে, মঞ্চ থেকে বলা কথাগুলো নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পুনরায় জন-মানসিকতায় ঢেলে দেওয়া যেতে পারে, যা “প্রচারণা চক্র” তৈরি করার দিক থেকে কার্যকর।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
• যদিও বিজেপি পরিকল্পনাটি গোপনভাবে চিন্তা করছে বলে দাবি করলেও, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের পক্ষ থেকে এই প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন যে, “কত সভা হবে” এবং তিনি জোর দিয়ে বলছেন, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
• দলের এক সিনিয়র নেতা জানান, “নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয় মুখ যেন হারিয়ে না যায়। তাই সভার সংখ্যা সীমিত রেখে তার বার্তা সর্বাধিক স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”
• বিশেষভাবে, ওই নেতা উল্লেখ করেছেন যে অতিরিক্ত সভা করলেও “নতুন কিছু বলার জায়গা থাকে না”। ফলে বারবার একই প্রসঙ্গতে ফিরে আসলে মন্ত্রণা এবং ভক্তির মধ্যকার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
নির্বাচনী সময়ের প্রেক্ষাপট
• নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়নি, তবে বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর থেকেই প্রোমোশন শুরু হতে পারে।
• নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়কাল ধরে চলতে পারে, প্রায় পাঁচ মাস। এই দীর্ঘ সময়ের কৌশল “বড় জনগুরুত্বপূর্ণ সভা” থেকে সরিয়ে “প্রতিধ্বনির ভিত্তিতে” রূপান্তরিত হয়েছে।
• বিজেপি এই নতুন ধরণের পরিকল্পনায় আশাবাদী যে, এতে মোদির বার্তা শুধুমাত্র উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং রাজ্যজুড়ে নেতাকর্মীদের মাধ্যমে “অল-ওভার রেজোনেন্স” তৈরি করতে পারবে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *