খবর লাইভ : পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বড় বিতর্ক শুরু করেছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন যার বয়স ৭৬ বছর, কিন্তু তাঁর ‘মা’ হিসেবে যিনি তালিকাভুক্ত, তাঁর বয়স মাত্র ৬৫। অর্থাৎ মায়ের চেয়ে ছেলে ১১ বছর বেশি বয়সী, যা লজিক্যালভাবে অসম্ভব।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, অভিযোগটি একেবারে সুনির্দিষ্ট বুথ-নম্বর এবং ভোটার শনাক্তকরণ নম্বর উল্লেখ করে করেছেন। এটি যমুনা পঞ্চায়েত এলাকায়, ২৬৪ নম্বর বুথ, বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায়। সেখানে নাম রয়েছে ‘আব্দুল মজিদ শেখ’ নামে এক ভোটারের, যিনি তালিকাভুক্ত হিসেবে আজ ৭৬ বছর বয়সী দেখানো হয়েছে। আর তাঁর মা হিসেবে তালিকাভুক্ত ‘যছিমন শেখ’ গত ২০০২-এর সংশোধিত ভোটার তালিকায় ছিল মাত্র ৪২ বছর বয়সী; আজ তাঁর বয়স হওয়া উচিত প্রায় ৬৫ বছর।
এই অবাস্তব ফারাক দেখে শুভেন্দু বলছেন, এটি শুধু একক ঘটনা নয়। তাঁর অনুসন্ধান অনুযায়ী, এমন অনেক অনিয়ম এখন রাজ্যে সামনে আসছে। তিনি বলছেন, কে কার বাবা-মা বা আত্মীয় হিসেবে দালালি করছে, এমন বেআইনি চক্র তৈরি হচ্ছে।
শুভেন্দু আরও দাবি করেছেন, যদি এই ধরণের ভুল সঠিকভাবে শনাক্ত না করা হয়, তাহলে রাজ্যের জনসংখ্যা ও জনবিন্যাস তথ্য অত্যন্ত ভুল পথে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য নির্বাচনী অফিসারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
তার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে আরও একটি প্রশ্ন। যখন ছেলে তাঁর বয়স অনুযায়ী বড় অর্থে প্রবীণ, তখন কেন তাঁর নাম ২০০২ সালের সংশোধিত তালিকায় নেই, অথচ মায়ের নাম রয়েছে? এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী ডাটাবেজে বড় গরমিল রয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি শুধুই ব্যক্তিগত নয়, এটি বিস্তৃত রাজনৈতিক গুরুত্বও পায়। শুভেন্দু দাবি করছেন, এই ধরনের নামের গোলমাল এবং অস্বাভাবিক পারিবারিক সংযোগ ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে।
তবে পুরো বিষয় এখন তদন্তে: নির্বাচন কমিশন কি এই অভিযোগগুলো গুরুত্ব দেবে? বা তাদের দৃষ্টিগোचर হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এসব প্রশ্ন এখন প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।




