খবর লাইভ : সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় সন্দেশখালি-১ ব্লকে এক বিএলও কর্মীকে ভয়ঙ্কর হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জামিরুল ইসলাম মোল্লাকে। স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, জামিরুল তার রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিএলও দীপক মাহাতোকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছিলেন এবং তার কাজেও বাধা দিচ্ছিলেন।
বিএলওকে রীতিমতো শাসানি, কোন বাড়ি যেতে হবে, কোন বাড়ি যাবেন না, তাও ঠিক করে দিচ্ছিলেন সন্দেশখালির একসময়ের বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহানের অনুগামী তৃণমূল নেতা জামিরুল ইসলাম মোল্লা। শেষ পর্যন্ত বিডিওর অভিযোগে ন্যাজাট থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওই তৃণমূল কর্মী। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালি-১ ব্লকের বিএলও দীপক মাহাতো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএলও এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছেন, পূরণের পর তা সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনের সাইটে আপলোডের কাজও করছেন তিনি। নিয়ম মতোই সব চলছিল।
অভিযোগ, যদি দীপক মাহাতো জামিরুলের নির্দেশ মতো না চলেন, তাহলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বিডিও (উপ-নির্বাহী অফিসার) হয়ে দিপক মাহাতো এই বিষয় তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।অবশেষে, ন্যাজাট থানার পুলিশ জামিরুল ইসলাম মোল্লাকে গ্রেফতার করে।
বসিরহাট জেলা বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘তৃণমূলের নেতারা বিএলও-দের উপর মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। দিকে দিকে বিএলও-রা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁদের চরম পরিণতির জন্য দায়ী তৃণমূল।’
এদিকে, বিএলও-দের ওপর রাজনৈতিক দলের চাপ ও হুমকির অভিযোগ ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। দাবি উঠেছে, এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনারি ও প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, যাতে বিএলও-দের স্বতন্ত্রতা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা যায়, ভোটার তালিকার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার নয়, স্বচ্ছ এবং স্বায়ত্তশাসিত হতে হবে।




